জেলা প্রতিনিধি
০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এক তরুণীকে (৩২) জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাংশা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন ওই তরুণী। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদ (৪০) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া রাশেদ পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নারায়ণপুর কলেজপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পাংশা শহরের দত্ত মার্কেটের একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ওই তরুণীর বাড়ি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকায়। গত সোমবার (৩০ মার্চ) ব্যক্তিগত কাজে তিনি পাংশায় আসেন। কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া ফেরার উদ্দেশ্যে মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে আসা তিন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর পাংশার কুলটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাসে করে ঘোরানোর সময় গাড়ির পেছনের সিটে তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি জনশূন্য স্থানে তাকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
মামলায় অভিযুক্ত অপর দুই আসামি হলেন পাংশা উপজেলার কুলটিয়া এলাকার হাসিবুর রহমান অন্তর (৩২) এবং পারনারায়ণপুর গ্রামের মো. বরকত মুন্সী (৩৪)। জানা গেছে, প্রধান আসামি হাসিবুর রহমান অন্তরের সঙ্গে ওই তরুণীর পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা কয়েক মাস আগে ভেঙে যায়। এছাড়া পাওনা টাকা নিয়ে অন্তরের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার একটি আদালতে ওই তরুণীর দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, তরুণীর অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযানে নামে এবং দ্বিতীয় আসামি রাশেদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। তাকে বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি