জেলা প্রতিনিধি
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
নেত্রকোনায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। জেলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে। শনাক্তদের মধ্যে নেত্রকোনা সদর ও আটপাড়া উপজেলায় চারজন করে, বারহাট্টা, পূর্বধলা, কলমাকান্দা ও কেন্দুয়ায় একজন করে রোগী পাওয়া গেছে।
বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর আগে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে আটপাড়া উপজেলার ছয় মাস বয়সী আরিফ নামের এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বুধবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে হাম শনাক্ত হচ্ছে।
আক্রান্তদের বেশিরভাগই শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী।
হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে সেখানে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের ভাষ্য, প্রথমে জ্বর এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে শিশুদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
শিশু বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান খান জানান, হাম রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার চালু রয়েছে এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে সাতজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল সিরাপসহ কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। ফলে অভিভাবকদের বাইরে থেকে এসব সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে অক্সিজেন সরবরাহ এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা বলেন, “আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। স্বাভাবিক সকল ঔষধই হাসপাতালে রয়েছে তবে কিছু দামি অ্যান্টিবায়োটিক হাসপাতালে না থাকাই অভিভাবকদের কিনতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
প্রতিনিধি/এসএস