images

সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে পাম্পে তেল উধাও: ভোর রাতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩১ এএম

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশন-এ পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রিতে গুরুতর অনিয়ম, পরিমাণে কম দেওয়া এবং কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল ৫টা থেকে পেট্রোল বিক্রি শুরু হয়ে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চললেও হঠাৎ করেই তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয় পাম্প কর্তৃপক্ষ। সে সময় সাধারণ ক্রেতাদের জানানো হয়— ‘পেট্রোল শেষ, তেল নেই।’

তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে বিক্রি বন্ধ রাখা হয় এবং রাতের অন্ধকারে গোপনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল সরিয়ে ফেলা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ভোররাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমিত সংখ্যক মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে জারকিন, বোতল ও ড্রামে করে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল বিক্রি করা হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পাম্পের তেল ‘উধাও’ হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাই না। অথচ ভোরে গোপনে তেল সরিয়ে ফেলা হয়। এটা স্পষ্ট সিন্ডিকেট।

আরেকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, রাতে সাধারণ গ্রাহকদের না দিয়ে ভোর ৪টার দিকে বেশি দামে জারকিনে তেল বিক্রি করা হয়েছে। এতে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।

এদিকে, ফিলিং স্টেশনে তদারকির দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি না থাকার সুযোগে কেন তেল বিক্রি করা হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে। মজুদ তেলের হিসাব মিল না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ২৪১৯ লিটার তেল বিক্রি হয়। পূর্বের মজুদ ৫৪৯ লিটারসহ মোট তেলের পরিমাণ ছিল ৩৫৪৯ লিটার। সে অনুযায়ী তখনও ১১২৯ লিটার তেল অবশিষ্ট থাকার কথা কিন্তু তেল গেলো কোথায়।

এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অপরদিকে, মালিক আহসান হাবিবের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অন্যায় করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি/টিবি