images

সারাদেশ

ইউটিউব দেখে লটকন চাষে বাবুর বাজিমাত

জেলা প্রতিনিধি

৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

ফসলের মাঠে ধান, ভুট্টা কিংবা সবজির ভিড়ে একসময় খুব একটা গুরুত্ব পেত না লটকন। কিন্তু দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামে সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। অবহেলিত এই ফলই আজ হয়ে উঠছে কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা, বাড়তি আয় আর স্বপ্নের প্রতীক। কম খরচে, কম পরিচর্যায় এবং বাজারে ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় লটকন চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। আর সেই পরিবর্তনের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা রাশেদুন নবী বাবু।

ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক জার্নাল থেকে ধারণা নিয়ে লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ হন রাশেদুন নবী বাবু। শুরুতে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ২৫ শতক জমিতে ৩৫টি লটকনের চারা রোপণ করেন। প্রথম কয়েক বছর আশানুরূপ ফলন না পেলেও ধৈর্য হারাননি। বরং নিয়মিত পরিচর্যা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি বাগানকে আরও সমৃদ্ধ করেন। চলতি মৌসুমে তার বাগানের প্রতিটি গাছে এসেছে দৃষ্টিনন্দন ফলন, যা তাকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।

600d7e9c-a7e5-49a7-8761-4ad410e8e0a3

রাশেদুন নবী বাবু বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি লাভও বেশি হবে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজি লটকন পাওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, লটকন চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। মূলত জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কমে, তেমনি ফলও থাকে নিরাপদ। স্থানীয় জাতের লটকন চাষ করেই আমি সন্তোষজনক ফলন পাচ্ছেন। লটকন মূলত সাথী ফসল হিসেবে চাষ করছি। শখের বসে শুরু করেছিলাম, এখন তা লাভজনক হয়ে উঠছে।

219ddb09-e254-4204-b368-1a1802278af5

বর্তমানে বাজারে লটকনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রতি কেজি লটকন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক। একই জমিতে তিনি লটকনের পাশাপাশি সুপারি ও মালটার মতো অন্যান্য ফসলও চাষ করছেন। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে বাড়তি আয়ও।

abbf2e93-067a-40d4-bb7d-205169904c05

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জ কৃষিতে অগ্রসর একটি উপজেলা। এখানে বিভিন্ন জাতের ফল চাষের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। লটকন চাষ বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর, বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি আরও জানান, লটকন চাষে তুলনামূলকভাবে কম রাসায়নিক সার প্রয়োজন হয়। ফলে এটি নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল হিসেবে বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করছে। বর্তমানে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন, যা লটকনের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

প্রতিনিধি/টিবি