জেলা প্রতিনিধি
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
প্রকৃত রোগীর তথ্য জালিয়াতি করে ভুয়া মেডিকেল সনদ প্রদানের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আলোচিত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার এ আদেশ প্রদান করেন। আদালতের অতিরিক্ত পিপি (এপিপি) হদিউজ্জামান শেখ ও নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ডা. ফয়সাল আহমেদ একটি ফৌজদারি মামলার (জিআর ৪২/২০২৫, বেলকুচি থানা) প্রকৃত রোগী শাহজালালের নথিতে কারচুপি করেন। তিনি শাহজালালের পিতা ‘মহব্বত আলী’র স্থলে ‘আলতাব’ এবং ‘শাহজাদপুর’ থানার স্থলে ‘বেলকুচি’ থানা লিখে নিজ হাতে সংশোধন করেন। এছাড়া একই সিরিয়ালে দুই জন ব্যক্তিকে ভর্তির টিকিট দেওয়ার তথ্যও প্রমাণিত হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ডা. ফয়সালের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ডা. ফয়সাল আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত-৩) ওবায়দুল হক রুমি নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে ডা. ফয়সাল আহমেদ এবং বেলকুচি উপজেলার কদমতলী গ্রামের মোতালেব হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. ফয়সাল ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ভুয়া মেডিকেল সনদ তৈরি করেছেন, যা দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৬৩ ধারা অনুযায়ী জালিয়াতির অপরাধ এবং শাস্তিযোগ্য।
এপিপি হদিউজ্জামান শেখ সংবাদমাধ্যমকে জানান ‘ডা. ফয়সালের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও জাল সনদ দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি তথ্য পরিবর্তন করে জাল সনদ দেওয়ার বিষয়টি আদালতে স্বীকার করেছেন। আদালত আজ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
বর্তমানে তাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি