জেলা প্রতিনিধি
২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও পাচাররোধে রাজশাহীতে পাম্প পাহারা দেওয়া শুরু করেছে বিজিবি। রাজশাহী জেলার সীমান্ত এলাকার ১২টি পেট্রোল পাম্পে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে সংস্থাটি। ৩ প্লাটুন বিজিবি মাঠে কাজ শুরু করেছে। রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন পদ্মা ও যমুনা অয়েল ডিপো এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা শুরু করেছে বাহিনীটি।
রোববার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী রেল স্টেশনের ভেতরে যমুনা অয়েল কোম্পানির রেলহেড ডিপোর সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্যাটালিয়ান-১ বিজিবি, রাজশাহীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতিতে কেউ যাতে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করতে না পারে এবং সীমান্ত দিয়ে যাতে কেউ তা পাচার করতে না পারে এজন্য টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি কঠোরভাবে দমন করা হবে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার আরও জানান, রাজশাহী জেলার ৬৪টি পেট্রোল পাম্পের ওপর তারা নজরদারি রাখছেন, যার মধ্যে ১২টি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। পাচার ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি এখন পর্যন্ত ১৯২টি স্পেশাল পেট্রোল এবং তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে। এছাড়াও ২৮৮টি চেকপোস্ট স্থাপন করে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি যানবাহন তল্লাশি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ পাচার সংঘটিত হতে না পারে। এছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে রাজশাহীর স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধারণের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এদিকে, আজ রোববারও সরেজমিনে ঘুরে রাজশাহীর অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষভাবে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় ছিল বেশি। সামান্য তেলের আশায় অনেকে রাতভর পাম্পের সামনে অবস্থান করেছেন। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।

তেল নিতে আসা মো. সজীব নামে এক যুবক বলেন, চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০ টাকার তেল পেয়েছি। এখন এনিয়ে কতক্ষণ চলে দেখি। আনিস নামে আরেকজন বলেন, মোটরসাইকেল এখন চালানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইচ্ছে করছে নিজের মোটরসাইকেল বেঁচে দিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে কাজ করতে।
প্রতিনিধি/এসএস