জেলা প্রতিনিধি
২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
যশোরের হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে গত দুই মাসে ২০০ জনের উপরে শিশু হামের চিকিৎসা নিয়েছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু টিকা নেয়নি বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে যশোর শিশু হাসপাতালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, রোগীর ভিড় ও লম্বা লাইন। সবার কোলে শিশু। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কেউ এসেছেন হাম কি না, তা নিশ্চিত হতে, কেউ এসেছেন বসন্ত কি না, তা জানতে।
হাসপাতালে দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় শহরের ষষ্ঠীতলা পাড়ার বাসিন্দা জুলিয়া খাতুনের সাথে। তার ১৫ মাসে মেয়ে সন্তান নিয়ে বুধবার এ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন, শরীরে লাল দাগ ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়। পরে জানতে পারি হাম হয়েছে। চিকিৎসা নেয়ার পর থেকে আমার মেয়ে অনেকটা সুস্থ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিক কার্ড হারিয়ে যাওয়ার কারণে হাম রুবেলার টিকা নেয়া হয়নি।

এর পাশের রুমে কথা হয় মণিরামপুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের উজ্জ্বল দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, আট মাস বয়সের মেয়ে জ্বর হয়। সাথে গায়ে র্যাশ ওঠে। একটি বেসরকারি ক্লিনিকে মেয়েকে দেখানো হয়। তারপর ওই ক্লিনিক থেকে জানায় ছেলে হামে আক্রান্ত, এই হাসপাতালে আনতে পরামর্শ দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করি।
ওয়ার্ডের ইনচার্জ সাইদা সুলতানা বলেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। প্রতিদিন শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসছে। দুই মাসে ৯০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু টিকা নেয়নি। যার কারণে তার আক্রান্ত হয়েছে।
যশোর শিশু হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সৈয়দ নূর-ই হামিম বলেন, টিকার কোনো অভাব নেয় হাসপাতালে। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। সচেতনতা বাড়লে আক্রান্তে হার কমবে।'
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী বলেন, গত তিন মাসে ৪৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে।

তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে দেখা গেছে, অনেকেই আগে হামের টিকা নিয়েছে। তারপরেও এসব শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ গবেষণা চালাচ্ছে।
যশোর সিভিল সার্জন মাসুদ রানা বলেন, সারা দেশেই হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। যশোরেও অনেক শিশু ভর্তি হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যশোরে টিকা অভাব নেই।
প্রতিনিধি/এসএস