images

সারাদেশ

মাজার ভাঙা ফৌজদারি অপরাধ, রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: ফরহাদ মজহার

জেলা প্রতিনিধি

২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০২ পিএম

মাজার ভাঙা ফৌজদারি অপরাধ এবং মাজার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার। 

গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দগরিসার এলাকায় সাধক আবদুল কাদির শাহ (রহ.)-এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুফিবাদ ও আত্মদর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী মনে করে ধর্মের ব্যাপারে কথা বলার একমাত্র অধিকার তাদের এবং তাদের বাইরে আর কেউ কথা বলতে পারবে না। ফলে মাজার ভাঙা হয়েছে, বাউলদের ওপর অত্যাচার হয়েছে এবং সেই অত্যাচার এখনো চলছে। অনেক বাউলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আবুল সরকার এখনো কারাগারে রয়েছেন। এমনকি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণও এখন পর্যন্ত কারাগারে আছেন। এগুলো অন্যায়। এই অন্যায়গুলো থেকে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে মুক্ত হতে হবে। এটি ছাড়া প্রীতি-ভালোবাসার সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’ 

তিনি বলেন, ‘মাজার ভাঙা একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি গর্হিত কাজ। ‘আমি একমাত্র সঠিক ধর্ম পালন করি আর অন্যেরটা ভুল’ এটি বিচার করার ক্ষমতা আল্লাহ মানুষকে দেননি। মাদ্রাসার কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের জন্য আমরা কি কখনো মাদ্রাসা বন্ধ করতে বলেছি? তাহলে মাজারে যদি কোনো অসংগত কাজ হয়ে থাকে, তবে সেটি বন্ধ বা সংশোধন করার কথা বলুন। কিন্তু মাজার যখন আপনারা ভাঙেন, তখন তা ইসলামের আদর্শের মধ্যে পড়ে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে রাষ্ট্র মাজার রক্ষা করতে পারে না বা মাজার ভাঙার মতো ফৌজদারি অপরাধ ঠেকাতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের আস্থার সংকট তৈরি হয়। কারণ নাগরিককে রক্ষা করা, মাজার রক্ষা করা কিংবা ঘরবাড়ি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা এখনো এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি যা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। আমি মাজারে যাব নাকি অন্য কোথাও যাব সেটি আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। যখন রাষ্ট্র এই অধিকার রক্ষা করতে পারে না, তখন অবশ্যই আমাদের রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।’

 প্রতিনিধি/একেবি