images

সারাদেশ

কক্সবাজারে বন্যহাতি হত্যা: মাটি চাপা দিয়ে মরদেহ গুমের চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি

২৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি বন্যহাতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে মরদেহ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দুর্গম বনাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার পর অপরাধীরা হাতিটির মরদেহ গর্তে পুঁতে রেখে তার ওপর একটি অস্থায়ী কাঁচা ঘর নির্মাণ করে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পচা মরদেহ থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধ বনবিভাগের নজরে এলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নগর ও করিম্মা কাটার ঘোনা এলাকার গভীর বনে আনুমানিক ১০ বছর বয়সী একটি বন্যহাতিকে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধীরা মরদেহ গোপন করতে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলে এবং তার ওপর একটি ছোট ঘর তৈরি করে, যাতে বাইরে থেকে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়।

গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বনবিভাগের নলবিলা বনবিটের টহল দল গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঘরটির নিচে পুঁতে রাখা হাতির মরদেহ শনাক্ত করে।

ঘটনা জানাজানি হলে বনবিভাগ, পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। আলামত সংগ্রহ ও পরিদর্শনে অংশ নেন।

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, চকরিয়া থানা ও ফাইতং ফাঁড়ি পুলিশ। পরে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলেই হাতিটির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

65f3739f-def8-4e8d-9c49-d6c453ff4612

বন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, হাতিটিকে গুলি করে অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মরদেহে পচন ধরায় সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ল্যাব পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, মরদেহ গুম করতে ঘর নির্মাণের ঘটনা প্রমাণ করে যে এলাকায় বন্যপ্রাণী হত্যার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ডিএফও) মারুফ হোসেন জানান, বন্যহাতি হত্যায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই সংক্রান্তে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি