জেলা প্রতিনিধি
২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে সরকারকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ আর অন্যটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে—যা বিবেকবর্জিত ও প্রতারণার শামিল।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর খালিশপুরস্থ বিআইডিসি রোডের শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সরকার যদি জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তার পরিণতি শুভ হবে না।’ অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী শাসকরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণকে দমন করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে।’
সরকারের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পূর্ণ দায় সরকারের। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর দায়ভারও সরকারকেই বহন করতে হবে। দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিতে এবং জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য না করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি এবং জামায়াতের দাকোপ-বটিয়াঘাটা হিন্দু কমিটির সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।
মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খান গোলাম রসুল প্রমুখ।
বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি সমর্থন করে না। তবে অন্যায় ও মন্দ কাজের বিরুদ্ধে তারা সব সময় আপসহীন থাকবে।
তিনি ধর্মীয় উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা সৎ কাজে সহযোগিতা করব এবং অন্যায়ের কঠোর প্রতিবাদ জানাব।’ আগামী ২৯ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদ যেন সংবিধান, আইন ও কার্যপ্রণালী বিধির বাইরে না যায়। অন্যথায় তা নতুন করে রাজনৈতিক সংকট উসকে দিতে পারে। তিনি আরও জানান, জামায়াতের সংসদীয় দল ইতোমধ্যে বৈঠক করে এমপিদের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এখন প্রধান বিরোধী দলে রয়েছে এবং ড. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সবশেষে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের দাবিতে কড়া অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, পাঁচ কোটি মানুষের সমর্থনপুষ্ট এই সনদকে উপেক্ষা করা মানে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা। দ্রুত এটিকে আইনে পরিণত না করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিনিধি/একেবি