images

সারাদেশ

শরীয়তপুরে ৬ ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৫টি বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলার ৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৫টিতেই তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই জেলার ৬টি ফিলিং স্টেশন ও ১৮টি ডিলার পয়েন্টে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে পরিবহন খাতের পাশাপাশি কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রভাব। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ পড়ছেন বিপাকে, অনেক স্থানে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেড়েছে ভাড়া।

তেলের অভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা জানান, সেচের জন্য তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। এতে ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে বিকেল ৪টার দিকে শহরের গ্লোরী ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ চালু করা হলে সেখানে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালক প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পরিবহন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও গ্লোরী ফিলিং স্টেশনের মালিক ফারুক তালুকদার বলেন, গত মাসের বরাদ্দ অনুযায়ী এ মাসে তেল সরবরাহ পাওয়া গেছে। তবে আগে যারা অল্প তেল নিতেন, তারাও এখন ট্যাংক পূর্ণ করে নিচ্ছেন। ফলে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণেই অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, কৃত্রিম সংকট দূর করে দ্রুত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রতিনিধি/ এজে