জেলা প্রতিনিধি
২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
খবর নেই পৌরসভা নির্বাচনের। হয়নি তফসিল ঘোষণাও। অথচ, মাদারীপুরে এক ডজনেরও বেশি সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ব্যানার আর পোস্টারের ছড়াছড়ি। শহরের অলিগলিতে ছেয়ে গেছে পরিচিতি হওয়ার রঙিন বিজ্ঞাপন। এমনকি গাছে গাছে পেরেকবিদ্ধও করা হয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ক্ষুব্ধ সুধীজনেরা। অবশ্য, শিগ্গিরই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে গাছে গাছে ঝুলছে ব্যানার আর ফেস্টুন। অথচ, এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা। বিষয়টি চোখে পড়লেও এড়িয়ে গেছেন তিনি। একই চিত্র শহরের অধিকাংশ সবুজ গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, এমনকি সরকারি-বেসরকারি ভবনের দেয়ালে। সবখানেই ঝুলছে অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন আর সাইনবোর্ড। মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণার প্রতিযোগিতায় মেতেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এতে সৌন্দর্য হারাচ্ছে শহরের। প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কোনটিতেই রঙিন পোস্টার বা ব্যানারে প্রচার-প্রচারণার কোনো বিধি নেই। নির্বাচনের কোনো খবর না থাকলেও নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে এমন কর্মকাণ্ডে করছেন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি। শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠনের নেতাদের।

আবু নাঈম নামে এক পথচারী বলেন, ‘সুন্দর একটি শহর এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে নষ্ট করছে। দেখতে খুবই খারাপ লাগছে। এমন কর্মকাণ্ড যারা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’
ফারদিন আহম্মেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শহরের চারপাশেই বিভিন্ন নেতাদের রঙিন ব্যানার আর সাইনবোর্ড যা দেখতে খুবই বিরক্তিকর। এটি অপসারণ হলে শহরটির পরিবেশ আগের মতন ফিরে আসবে।’

মাদারীপুরের পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার-এর নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, যেদিকে দু'চোখ যায়, সেদিকে শুধু ব্যানার আর পোস্টার। এ যেন এক বিজ্ঞাপনের শহর। এগুলো অপসারণে প্রশাসন আদৌ কী ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিজ উদ্যোগে এগুলো সরিয়ে না নিলে শিগ্গিরই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে মাদারীপুর পৌরসভাকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস