images

সারাদেশ

পাইকার না থাকায় ফলন ভালো হয়েও লোকসানে তরমুজ চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি

২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলতি মৌসুমে তরমুজের ফলন মোটামুটি ভালো হলেও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক। পাইকারের অভাব, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাষিদের দুশ্চিন্তা চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর অনেক কৃষক দূর-দূরান্ত থেকে এসে জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় অধিকাংশই লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।

চরচান্দুপাড়া গ্রামের তরুণ চাষি ফেরদৌস তালুকদার ৬৪ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। ঈদের আগে তরমুজ বিক্রি শুরু করলেও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় লাভের পরিমাণ খুবই কম।

তিনি জানান, যেখানে প্রতি মণ তরমুজ ২২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে বাধ্য হয়ে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

নির্ধারিত মেয়াদের সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ

একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন আরেক চাষি মো. রিয়াজ, যিনি ২৪ বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এছাড়া ধানখালী এলাকার চাষি অলিউল্লাহ ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। তারা জানান, সময়মতো তরমুজ বিক্রি করতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

চাষিরা অভিযোগ করেন, এ বছর এলাকায় পাইকার তেমন আসেনি এবং মোকামগুলোতেও চাহিদা কম। পাশাপাশি ঈদের আগে কয়েক দফা বৃষ্টিতে খেত কাদায় পরিণত হওয়ায় তরমুজের গুণগত মানও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কম থাকায় বাজারে চাহিদা আরও কমে গেছে।

e364bf49-f5a9-4d34-829a-6ab37fc6d5a1

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কলাপাড়ায় ৪৪৪৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় তিন হাজার কৃষক জড়িত। ৪০৪ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখনো বিক্রির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, যারা আগাম তরমুজ চাষ করে রমজানের মধ্যে বিক্রি করতে পেরেছেন তারা লাভবান হয়েছেন। তবে প্রায় অর্ধেক চাষি লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সার্বিকভাবে বাজার স্থিতিশীল না হলে কলাপাড়ার তরমুজ চাষিদের বড় একটি অংশ আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস