জেলা প্রতিনিধি
২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
পদ্মা সেতু পুরোদমে চালু হওয়ার পর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকামুখী রেল যোগাযোগের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে এই রুটে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি স্টেশনের পরিধি কিংবা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। ফলে কুষ্টিয়া শহরের প্রধান এই রেলস্টেশনটিতে যাত্রী ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। প্ল্যাটফর্ম ছোট ও ট্রেনের সিঁড়ির তুলনায় নিচু হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র জনবল সংকট।
এসব জনদুর্ভোগ লাঘব ও সমস্যা নিরসনের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আন্তরিক কুষ্টিয়া’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্টেশনটির অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্টেশন সম্প্রসারণ ও প্ল্যাটফর্ম উঁচুকরণ এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর ১২টি বগির মধ্যে সামনের ও পেছনের ৩টি করে বগি প্ল্যাটফর্মের বাইরে থাকে। ফলে যাত্রীদের প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা থেকে নিচে নামতে হয়, যা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মানবেতর।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘সিটিজেন চার্টার’ (ক্রমিক-২১, নাগরিক সেবা-৩) অনুযায়ী প্ল্যাটফর্ম শেড ও যাত্রী ওঠানামা সহজীকরণের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে এর কোনো প্রতিফলন নেই। এমনকি ১৯ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত হুইলচেয়ার সেবারও কোনো অস্তিত্ব এখানে পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধন শেষে স্টেশনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ও সংস্কারসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, ‘জনভোগান্তির বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা। যেহেতু আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি বুঝতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রতিনিধি/একেবি