images

সারাদেশ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করা হচ্ছে: আখতার হোসেন

জেলা প্রতিনিধি

২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বর্তমানে বাস্তবায়নে টালবাহানা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালে আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারী আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছিল। ১৯৭১ সালের মতোই ২০২৪ সালেও আমরা আরেকটি বিজয় অর্জন করেছি। ১৯৪৭ সালে এই ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি হয়েছিল, আর ২০২৪-এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, আজ স্বাধীনতা দিবসে আমরা যেমন বীর শহীদদের স্মরণ করি, তেমনি তাদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রক্ষার শপথ নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। সেই শপথের অংশ হিসেবেই জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই গণভোটে অধিকাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন এবং সংস্কারের পক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

স্বাধীনতার অনেক আকাঙ্ক্ষাই পূরণ হয়নি: বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ

এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, এই স্বাধীনতা দিবসে আমরা সেই সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়- বীর শহীদরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই বাংলাদেশের সংবিধান বিদ্যমান কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র অর্জন সম্ভব নয়।

আখতার হোসেন বলেন, এনসিপি একটি নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রত্যাশা সব রাজনৈতিক দল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জাতির কাছে তারা ওয়াদা করেছিল। আমরা দেখতে পাচ্ছি, কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বর্তমানে বাস্তবায়নে তালবাহানা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল- জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গেও প্রতারণা। বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই এই প্রতারণা মেনে নেবে না। আজ স্বাধীনতা দিবসে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা বিনীত আহ্বান জানাই- স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে, ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করে এবং গণভোটের রায় কার্যকর করে একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যান।

প্রতিনিধি/এসএস