images

সারাদেশ

যশোরে তেল নিয়ে হুলুস্থুল, পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

জেলা প্রতিনিধি

২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৫ এএম

জ্বালানি তেলের উপরে রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও যশোরের মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি এখনও কমেনি। তেলের সরবরাহ ঠিকঠাক না থাকায় অনেকে পাম্পে যানবাহনে তেল দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকছে। সীমিত পরিসরে তেল দেওয়া পাম্পগুলোতেও সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পেয়ে চালকরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন।

যশোরের চুড়মনকাটি থেকে চৌগাছা উপজেলার মুক্তদাহ পর্যন্ত চারটি তেলের পাম্প রয়েছে। এ চারটি পাম্পের মধ্যে তিনটি পাম্পে মোটরসাইকেলে পেট্রোল দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ। বাকি একটি চৌগাছা পাম্পে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন। এ পাম্পের কর্মচারী রায়হান বলেন, চৌগাছার অন্য পাম্পগুলোতে তেল নেই। ফলে গাড়ি থেকে তেল নামানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ এখানে অপেক্ষারত মোটরসাইকেল চালক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঘণ্টার উপরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেল না নিয়ে ফেরার উপায় নেই। বাইকে তেল নেই। আজও যদি ভিড়ের কারণে তেল না পাই, তাহলে বাইক ঠেলে বাসায় নিয়ে যেতে হবে।

অন্যদিকে বেনাপোল ফিলিং স্টেশন, মিলন ফিলিং স্টেশন, তনিমা ফিলিং ও হক ফিলিং স্টেশনগুলোর অনেক পাম্প অর্ধেক বন্ধ রয়েছে। তেল সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাচ্ছেন না। মোটরসাইকেল চালক রিপন হোসেন বলেন, দুটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে বাড়ি ফিরব কীভাবে তা বুঝতে পারছি না। আর এক মোটরসাইকেল চালক সিয়াম আহমেদ বলেন, এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে তেলের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরছি। তেল না পেলে মোটরসাইকেল ঠেলে বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন

খুলনায় জ্বালানি তেল সংকট: দীর্ঘ লাইনে দুর্ভোগ

এদিকে, যশোর শহরের মণিহার এলাকার যাত্রীক পেট্রোলিয়াম সার্ভিসের সহকারী সুপারভাইজার পলাশ বলেন, চাহিদা অনুপাতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েকদিন পাম্পে প্রচুর ভিড়। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদের সংখ্যাই বেশি। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে অনেকে বেশি করে তেল কিনছেন।

এখানে মোটরসাইকেল চালক আমজেদ হোসেন বলেন, গাড়িতে তেল নেওয়া এখন মানুষের জীবনযুদ্ধের একটি অংশ হয়ে গেছে। মানুষের এখন গাড়িতে তেল নেওয়ার জন্যও হাতে তিন-চার ঘণ্টার একটা সময় নিয়ে বেড় হতে হচ্ছে। আমরা সবাই তো বুঝি যুদ্ধের কারণে তেল সংকট, এখানে সরকারেরও কিছু করার নেই। সাধারণ মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার দরকার কী? সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু আমরা তেল পাচ্ছি না। যদি সত্যি তেলের সংকট থাকে, জনগণকে জানান। জনগণ গাড়ি না চালিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করবে।

ঢাকা রোড তালতলা এলাকার মেসার্স মনিরউদ্দিন আহমেদের ম্যানেজার এএসএম খালিদ বলেন, তেল না থাকলে পাম্পে সাময়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। ডিপো থেকে তেল নিয়ে আসা সাথে সাথে পাম্পের সামনেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস