images

সারাদেশ

রংপুরের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে চালকরা

জেলা প্রতিনিধি

২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

সারাদেশের মতো রংপুরেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। পাম্প মালিকদের দাবি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ হচ্ছে না। যার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে। 

বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর এ রহমান পাম্প, ছালেক পেট্রোল পাম্প, শাপলা পেট্রোল পাম্প, সিটি পেট্রোল পাম্পসহ প্রায় সবগুলো পাম্পেই মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আবার অনেক পাম্প কালো কাপড়ে ঢাকা দেখা যায়।

পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহে তীব্র ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। দুই ঘন্টা তিন ঘন্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে তারা তেল সংগ্রহ করছেন। তবে দুই ঘন্টা ধরে অপেক্ষার পর তেল পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ টাকার। আবার কোথাও কোথাও অপেক্ষার পর জানা যাচ্ছে তেল শেষ হয়েছে। যার কারনে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেল পাম্প কর্মচারী ও মালিকদের সাথে প্রায় তর্কাতকির মতো ঘটনা ঘটছে আবার কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি দেখা দিচ্ছে।  

রংপুর নগরীর এ রহমান পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুপুরের খাবারের সময় হাতে নিয়ে পাম্পে এসেছি। এক ঘণ্টা হলো তবু লাইন শেষ হচ্ছে না। কখন যে তেল পাবো সেই সময়ের কোনো ঠিক নাই। 

জুম্মন আলী বলেন, শ্বশুর বাড়ি যাবো। কমপক্ষে ৫০০ টাকার তেল লাগবে। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল পেলাম মাত্র ১০০ টাকার। অনেক রিকুয়েস্ট করেও ১০০ টাকার বেশি পাওয়া গেলো না। এই ১০০ টাকার তেল দিয়ে কীভাবে। এমন আক্ষেপের কথা বলেন রহমত আলী।

তিনি বলেন, ২০০-৩০০ টাকার তেল দিলে কিন্তু পাম্পের লাইন ধরতে হতো না। বাইকাররা পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন এবং লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। 

স্বপন চৌধুরী বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা তো তেল বাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে খায় না। প্রয়োজনে তো তেল দরকার। সেটাও পাচ্ছি না। অথচ মন্ত্রী অনবরত তেলের সংকট নাই বলে মিডিয়ায় বক্তব্য দিচ্ছেন। মন্ত্রীর লজ্জাও নাই। 

পেট্রোল পাম্প অনার্স এসোসিয়েশনকে রংপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ শোভন বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ দিচ্ছে। যার কারণে তেল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। রংপুরে যা তেল রয়েছে সেটাও দ্রুত সরবরাহ শেষ হওয়ার পথে। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা অনেকে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে তেল মজুত করছেন, এমন আশঙ্কা থেকে ১০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থাকবে। এসময় তিনি পাম্পের নিরাপত্তায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানান প্রশাসনের কাছে। 

যমুনা পেট্রোলিয়ামে রংপুর অঞ্চলের সেলস অফিসার মোহসিন আলী জানান, ঢাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যার কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

প্রতিনিধি/ এজে