জেলা প্রতিনিধি
২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
বাগেরহাটের শরণখোলায় কিশোরী ফাতেমা আক্তার ওরফে রিয়া মনি (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে এক প্রসাধন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে নিহতের বাবা আজিম শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই অভিযানে নেমে পুলিশ রফিকুল ইসলাম রুবেল (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। রুবেল রায়েন্দা বাজারের একজন কসমেটিক ব্যবসায়ী এবং রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা।
শরণখোলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার জানান ‘হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ শুরু করি। রিয়া মনির মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে রুবেলের সাথে তার যোগসূত্র পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য রাজৈর গ্রামের একটি নির্জন সড়ক থেকে রিয়া মনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যার পর সেখানে ফেলে যায়। এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মাঝে রিয়া মনির মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী মনে করেন, স্থানীয় কিছু মাদক কারবারি রিয়াকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করত বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয়ত, মাদক বা অন্য কোনো অনৈতিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া রুবেলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং রিমান্ডের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ দ্রুতই পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/একেবি