জেলা প্রতিনিধি
২৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২৪ এএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে ঈদের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ছিল খাগড়াছড়ির সব পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
পর্যটক আগমনে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে পর্যটক সংশ্লিষ্টদের মাঝে। দিনব্যাপী পর্যটকে ভরপুর থাকায় খুশি এখানকার ব্যবসায়ীরাও।
জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের প্রধান আকর্ষণ রহস্যময় গুহা, ঝুলন্ত সেতু, নন্দনকানন উপভোগ করছেন পর্যটকরা। মোবাইলে ছবি তুলে ছুটির দিনটি স্মরণীয় করে রাখছেন অনেকে। প্রকৃতির এমন রূপে মুগ্ধ পর্যটকরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যটন পর্যটকদের আনাগোনায় এক মিলনমেলার রূপান্তর হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যটক সংখ্যা কম আসলেও তৃতীয় দিন খাগড়াছড়িতে বিপুল পর্যটক আসতে শুরু করেছে। জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট বুকিং রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে আলুটিলা ও রিসাং (তেরাং তৈকালাই) ঝরনায় গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা সকাল থেকেই দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন। সাজেকে উদ্দেশে যাচ্ছেন।
আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা জানান, ঈদের প্রথম দিন দুই হাজার, দ্বিতীয় দিনে তিন হাজার ও তৃতীয় দিনে তার বেশি ভ্রমণ পিয়াসুরা এসেছে। ধারণা করছি এই রকম সপ্তাহব্যাপী আসতে পারে।
পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পিকআপ, জিপ (চাঁদের গাড়ি), সাফারি, সিএনজি, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত টমটম, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বার্মিজ মার্কেট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে সাত বন্ধু বেড়াতে এসেছেন। মো. আরিফুল, মো. রায়হান, মো. মেহরাজ জানান, ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়িতে ঘুরতে এসেছেন। আলুটিলা, রিসাং ঝরনা, জেলা পরিষদ পার্ক ঘুরে দেখেছি, আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। আমরা সাজেক ঘুরে এসেছি।
ঢাকা থেকে সপরিবারে বেড়াতে এসে মো. জায়েদ বলেন, ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। পাহাড়ের চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। দীর্ঘদিন পর বেড়াতে আসলাম। পাহাড়, আলুটিলা, গুহা, ঝরনা, ঝুলন্ত ব্রিজ দেখলাম, খুব ভালো লাগল। অবশ্যই পাহাড়টাকে সবাই ঘুরে দেখা উচিত।
খাগড়াছড়ি সাজেক কাউন্টারের লাইনম্যান মো. আরিফ জানান, গতকাল আড়াইশ পিকআপ, জিপ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনস্পটসহ সাজেক গেছে। আজ তেল সংকট তাই সাজেকে ৫০ গাড়ি ছেড়ে গেছে।

খাগড়াছড়ি পর্যটক মোটেল করপোরেশন ইউনিট ইনচার্জ ক্যাচিং মারমা জানান, মোটেলে ৮০ শতাংশ রুম বুকিং আছে। এই রকম এই সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যটক আসতে পারে।
খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক (ইনচার্জ) জাহিদুল কবির বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস