images

সারাদেশ

লোকে লোকারণ্য সমুদ্রসৈকত ছুটিতে পর্যটকের ঢল

জেলা প্রতিনিধি

২২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

ঈদের ছুটিতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এখন মানুষের স্রোতে ভাসছে। লোকে লোকারণ্য সাগরতীরে পা ফেলারও যেন জায়গা নেই কোথাও। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ নেমেছেন নোনাজলে, কেউ আবার বালিয়াড়িতে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।

cox_1

ঈদের দিন বৃষ্টি থাকলেও ছুটির দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) কক্সবাজারে ছিলো নির্মল আবহাওয়া। সাগরের ঢেউ আর মনোরম পরিবেশ যেন নতুন করে আহ্বান জানিয়েছে পর্যটকদের। ফলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে দেখা গেছে শুধু মানুষ আর মানুষ।

মেহেরপুর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক মনোহর রূপা বলেন, ভাবছিলাম ঈদের ছুটিতে হয়ত ভিড় কম হবে। কিন্তু এখানে এসে দেখি মানুষের ঢল। এত প্রাণচাঞ্চল্য আগে কখনও দেখিনি— খুব ভালো লাগছে।

cox_2

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা পর্যটক মনিরুল ইসলাম জানান, ড্রোন দিয়ে সৈকতের দৃশ্য ধারণ করছি। যত উপরে উঠাই, ততই মানুষ দেখি। মনে হচ্ছে অন্তত দুই লাখের কাছাকাছি পর্যটক রয়েছে। দৃশ্যটা সত্যিই অসাধারণ।

রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে আসা সরকারি চাকরিজীবী মতিউর রহমান বলেন, ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে মন খারাপ ছিল। কিন্তু আজকের আবহাওয়া একেবারে পারফেক্ট। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছে।

cox_4

পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখেও এখন হাসি। কলাতলী এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী সাঈদ আনোয়ার বলেন, গত দেড় মাস পর্যটক ছিল না বললেই চলে। ঈদের ছুটিতে হঠাৎ করে বুকিং বেড়ে গেছে। সব কক্ষই প্রায় পূর্ণ। 

সৈকতসংলগ্ন এক ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রেতা স্বদেশ রায় বলেন, এই সময়টাতেই আমাদের বছরের সেরা আয় হয়। পর্যটক বেশি থাকলে ব্যবসাও ভালো হয়। 

তবে পর্যটকের এই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। লাইফ গার্ডরা ওয়াচ টাওয়ার থেকে নজরদারি, মাইকিং ও টহল অব্যাহত রেখেছেন।

cox_5

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “লাখের বেশি পর্যটক সমুদ্রস্নানে নেমেছেন, কিন্তু আমাদের জনবল মাত্র ২৭ জন। তারপরও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। 

অন্যদিকে, টুরিস্ট পুলিশও জোরদার করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের উপ-পরিদর্শক সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং বিনোদনকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক টহল চলছে। 

শুধু সমুদ্রসৈকতই নয়, আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী সমুদ্রসৈকত এবং পাতুয়ারটেক এলাকাতেও পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

কক্সবাজারে ঈদ পরবর্তী পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের পরদিন থেকেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভিড় করতে পারেন এবং এই ধারা টানা প্রায় ১০ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পর্যটন খাত থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন, কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) সাজেদুর রহমান জানান, টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় জেলা পুলিশের টিম ও সাদা পোশাকের টহল দল সার্বক্ষণিক সক্রিয় রয়েছে। পর্যটকদের হয়রানির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সমুদ্র সৈকত এলাকায় নতুন করে কোনো দোকান বসতে দেওয়া হবে না। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য বজায় রেখে বিশ্বমানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

প্রতিনিধি/এজে