images

সারাদেশ

ব্রহ্মপুত্রের তীরে প্রকৃতির রূপে মাতোয়ারা দর্শনার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি

২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

লিজা, মিজান ও সাহিদা। সবাই তরুণ-তরুণী, এদের বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজশাহীতে বসবাস। ঈদের ছুটিতে একঘেয়ে জীবন ছেড়ে পৌঁছাছে গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে। এই ছুটির সময়গুলো উপভোগ করতে এসেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। এ নদের দৃশ্য আর প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ তারা। শুধু লিজেনরাই নয়, এখানে সব বয়সের হাজারও বিনোদন প্রেমি যেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়েছে। 

gibandha_1

রোববার (২২ মার্চ ) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ভ্রমণ পিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়। চিরচেনা দর্শনীয় এই স্থানে শিশু, তরুণ-তরুণীসহ নানান বয়সি মানুষেরা নৌকা-ঘোড়া, গাড়ি ভ্রমণে চরাঞ্চল ঘুরে দেখতে মেতে উঠেছে। ঈদ-উল ফিতরের ছুটিতে নৌবন্দর বালাসী ঘাটে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরের নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা। নদীমাতৃক এই সুন্দর বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের মধ্য ফলছড়ির এই বালাসী ঘাট। এখানে বিনোদনের জন্য কয়েকটি স্থান থাকলেও সেগুলোতে কৃত্রিম কিছু দেখা ছাড়া প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য তেমনটি চোখে পড়ে না। তাই ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে ছুটছেন বিনোদনপ্রেমিরা। এখানে প্রকৃতির নির্মল বাতাস আর দৃশ্য দেখতে মনের আনন্দে ঘুরাঘুরিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে।   

gibandha_2

এদিকে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীদে নামানো হয়েছে বেশ কিছু নৌকা। বালু চরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঘোড়া গাড়ি। এসব বাহনযোগে বিভিন্ন বালুচরসহ এদিক-সেদিক ঘুরছে ভ্রমণপিপাসুরা। একই সঙ্গে নদীর পাড়ে ও চরাঞ্চলগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে বালাসী ঘাটে আগত উৎসুক বিনোদনপ্রেমিরা মুগ্ধ হচ্ছেন। এদিক-সেদিক ঘুরছে ভ্রমণপিপাসুরা। একইসঙ্গে চরাঞ্চলগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে।  

লিজা আক্তার নামের এক তরুণী জানায়, বাবা-মায়ের চাকুরির সুবাদে রাজশাহী বসবাস। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে। ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করতে বালাসী ঘাটে আসা হয়। এখানে ঘুরে খুব ভালো লেগেছে এবং অনেকটা মুগ্ধ। যেন প্রকুতির রূপে মিশে যাওয়ার মতো।  

মিজানুর রহমান নামের তরুণ বলে, এখানে নৌযোগে ঘুরাঘুরি করলাম। বালুচরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে প্রাণ জুড়ে গেল। তবে বালাসীর এই স্থানে একটু বিশ্রামের জন্য বসার তেমন ব্যবস্থা নেই। সঙ্গে বাথরুমের ব্যবস্থা করা দরকার।  

শহিদুল ইসলাম নামের এক চাকরিজীবী জানান, কর্ম ব্যস্ততার কারণে পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরির সময় কম হয় তার। তাই ঈদের ছুটিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই বালাসী ঘাটে এসেছি। এখানে অনেকটা ভালো লেগেছে। 

নৌমাঝি আনজারুল ইসলাম বলেন, ঈদ-উল ফিতরকে কেন্দ্র করে নদীতে নৌকা নামানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য এটি কয়েকদিন চলবে। লোক বহন করে দিনে প্রায় ১ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে রোজগার হচ্ছে। শুধু ঈদে নয়, দেশের বিভিন্ন উৎসবে এখানে মানুষের সমাগম ঘটে।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, বালাসীতে আগত মানুষেরা যাতে করে নির্বিঘ্ন আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে বিষয়ে টহল রাখা হয়েছে।

প্রতিনিধি/ এজে