জেলা প্রতিনিধি
২০ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দু'হাত মেহেদির রঙ্গে রাঙাচ্ছেন নারীরা। এই মেহেদির রঙ্গে আনন্দে যোগ হচ্ছেন শিশু, কিশোরী, তরুণী ও মধ্যবয়সি নারীরা। যে যার পছন্দ মতো নিজের দুই হাত মেহেদির রঙ্গে রাঙিয়ে নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার থেকে মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমন চিত্র দেখা যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন বিউটি পার্লার, রেস্টুরেন্ট ও বাসাবাড়িতে এমন চিত্র। বিউটি পার্লার গুলোতে বিউটিশিয়াশদের যেন দম ফেলার সময় নেই। বিউটি পার্লারের পাশাপাশি বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট আর্টিস্টদের দিয়ে এই মেহেদি লাগানোর কাজ করে যাচ্ছে। আবার অনেকে বাসা বাড়িতে নিজের মনের আনন্দে হাতে লাগাচ্ছেন মেহেদি। মেহেদি হাতে লাগিয়ে আবার অনেকে সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
মেহেদি হাতে পলি আক্তার জানান, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উৎসব। আনন্দ ও উৎসবকে আরো রাঙিয়ে তুলতে সব নারীরাই চাই সাজগোজ করতে। সেই সাজগোজের সাথে মেহেদির রঙ্গে হাত রাঙাতে সবাই চাই। সবাই চাই তার সেরা সৌন্দর্য তুলে ধরতে। আর মেহেদির রঙ্গে হাতের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই চলে এসেছি রেস্টুরেন্টে।
সুমাইয়া আক্তার জানান, ঈদ আসছে, হাতে মেহেদি দিব না এটা কি হয়। মেহেদি এখন যে কোন অনুষ্ঠানের সাজের সাথে জড়িয়ে গেছে। মেহেদি দিয়ে হাত রাঙালে এমনিতেই উৎসব উৎসব মনে হয়। আর এখন ঈদ, আনন্দ মনে হচ্ছে ডাবল। বিউটি পার্লার থেকে আমার দুই হাত ৪০০ টাকা দিয়ে রাঙিয়ে নিয়েছি। মেহেদি রাঙানো এখন সৌন্দর্য ও ফ্যাশন।
জেলা শহরের দ্য কুজিনের স্বত্বাধিকারী জেবিন ইসলাম জানান, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উৎসব। এই আনন্দ ও উৎসবে সবাই যেন শরিক হতে পারে, তাই এই প্রয়াস। ঈদের শেষ মুহূর্তে বিউটি পার্লারগুলোতে খুব ব্যস্ত থাকে। আমার এই রেস্টুরেন্টে স্পেস অনেক বেশি। সেই চিন্তা থেকে বাহির থেকে আর্টিস্ট এনে গত কিছু দিন ধরে এই মেহেদি উৎসবের আয়োজন করি। এই আয়োজনে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। আর্টিস্টদের নিজেদের পছন্দ আবার কেউ তার নিজস্ব পছন্দে মেহেদির রঙ্গে দুই হাত রাঙাচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, বড় বড় আর্টিস্টদের কাছে গেলে হাতে মেহেদী রাঙাতে অনেক টাকা লাগে। সেই চিন্তা করে উঠতি বয়সী কিছু উদ্যোক্তা যারা ভালো আর্টসের কাজ করে তাদের দিয়ে আমি আমার এই রেস্টুরেন্টে এ আয়োজন করেছি।
আর্টিস্টরা কাজ অনুযায়ি দেড়শ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে এই আয়োজনেরর ফলে হাতে মেহেদি রাঙানোর পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে পারছে। এতে করে পরিবারের সবাই একত্রে সময় কাটাতে পারছে।
জেলার বিজয়নগর উপজেলার কাজল বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী কাজল বলেন, মফস্বল এলাকা। মেহেদি রঙ্গে হাত রাঙাতে এখানেও চাহিদা। সব সময় আসে, তবে যে কোন উৎসবে এই চাহিদা আরে বেড়ে যায়। আর এখন ঈদ, সবাই তার সেরা সাজটা সাজতে চাচ্ছে। এখানে ৩'শ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
জেলা শহরের স্বপ্নসাজ বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী চৌহান রিক্তা বলেন, প্রতি বছরই মেহেদীর রঙে রাঙানোর চাহিদা বেশ থাকে। এবারো চাহিদা বেশ। সব বয়সী নারীরাই আসে। এখানে ৩০০ থেকে সর্ব্বোচ্চ ১৫০০ টাকা নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, সব সময় এই প্রতিষ্ঠানে মেহেদি রঙ্গে হাত রাঙাতে নারীরা আসেন, তবে ঈদের আগ মুহূর্তে শিশু, কিশোরী, তরুণী, মধ্যবয়সি সকলে আসেন। এই চাহিদা বেড়ে কয়েকগুণ হয়ে যায়।
প্রতিনিধি/এমএইচআর