জেলা প্রতিনিধি
২০ মার্চ ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
পর্যটকদের আগ্রহ ও আকর্ষণের অন্যতম স্থান বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সারা বছরই এখানে ভিড় থাকলেও উৎসব মৌসুমে পর্যটকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ইতোমধ্যে সৈকতকেন্দ্রিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এবার ঈদের ছুটির ৮ দিনে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের দিন তুলনামূলক পর্যটক কম থাকলেও ঈদের পরদিন ২২ মার্চ থেকে শুরু হবে পর্যটকের ঢল, যা টানা ২৯ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই সময়ে অন্তত ৯ লাখ থেকে ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পর্যটকদের বরণ করে নিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে চলছে চেয়ার মেরামত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রেস্তোরাঁগুলোও খুলে দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল বলেন, পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে সব রেস্তোরাঁ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খাবারের মূল্যতালিকা দৃশ্যমান রাখা হবে এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায় ঠেকাতে তদারকি থাকবে।

রমজান মাসে পর্যটক টানতে হোটেল ভাড়ায় সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হলেও ঈদের পর সেই ছাড় কমিয়ে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ করা হয়েছে। শহরের পাঁচ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে পর্যটকের ঢল সামলাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় ২৭ জন লাইফগার্ড থাকলেও দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানীসহ বেশ কিছু সৈকত এলাকায় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নেই।

সি-সেফ লাইফগার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, প্রধান পয়েন্টগুলোতে সীমিতসংখ্যক লাইফগার্ড রয়েছে। তবে পর্যটক বাড়লে এই সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার আসি। এবারও পরিবার নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছি। আগে থেকেই হোটেল বুকিং না করলে কক্ষ পাওয়া কঠিন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক পর্যটক নুসরাত জাহান বলেন, সৈকতের পরিবেশ, সূর্যাস্ত আর মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য আমাদের বারবার টানে। তবে নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আরও জোরদার করা দরকার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, রমজান মাসে ব্যবসা একদম কম ছিল। ঈদের ছুটিতে পর্যটক এলে আমাদের দোকানপাটে আবার প্রাণ ফিরবে।
একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী মনির আহমেদ বলেন, রমজানে অধিকাংশ কর্মচারী ছুটিতে ছিলেন। ঈদের দিন সবাই ফিরে আসবেন। এরপর টানা ব্যস্ততা থাকবে।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, তারকা মানের ৩০টির বেশি হোটেল-রিসোর্টে ৯৫ শতাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। সাধারণ মানের পাঁচ শতাধিক হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে গড়ে ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন অন্তত ৭০-৮০ হাজার পর্যটক আসবেন। এরপর প্রতিদিন গড়ে এক লাখ করে পর্যটক আগমন ঘটতে পারে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুর জানান, ঈদের ছুটির ৮ দিনে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, শুঁটকি ও সামুদ্রিক মাছসহ প্রায় ১৩টি খাত এতে উপকৃত হবে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের মুখপাত্র পরিদর্শক পারভেজ আহমদ বলেন, ঈদে পর্যটক বাড়বে, সেকারণে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে টহল টিম, মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টিম মাঠে থাকবে। পর্যটকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আমরা সজাগ আছি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটন ব্যবসা জমজমাট হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে কক্সবাজার। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় বা রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বাড়ানো রোধে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/ এজে