images

সারাদেশ

পিরোজপুরে জেলে পল্লিতে নেই ঈদের প্রস্তুতি

জেলা প্রতিনিধি

২০ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। সবার মনে ঈদের আনন্দ থাকলেও পিরোজপুর জেলে পল্লীর কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেই ঈদের কোনো আনন্দ। ধার দেনা করে কোনো মতে জীবন চললেও ঈদ উদ্‌যাপন করতে সেমাই, চিনি কেনার সমর্থ্যটুকুও নেই অনেক জেলের। পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাদের কিনে দিতে পারেনি ঈদের কোনো নতুন জামা কাপড়। জেলে পল্লিতে নেই কোনো ঈদের প্রস্তুতি। সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা কয়েক হাজার জেলে পরিবারের।

a1fc5831-a0ad-4a06-aa88-f961c6932abf

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবে সব শ্রেণি পেশার মানুষ, ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার মনে বইছে ঈদের আনন্দ। পরিবারের জন্য নতুন পোশাক ও সেমাই ক্রয়-করা ঈদের আনন্দের একটি অংশ; কিন্তু এই ঈদের আমেজ পিরোজপুরের মৎস্য পল্লীর কয়েক হাজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দেখা মিলছে না।

1774ebad-a762-4643-a613-3c68b3784d4c

পিরোজপুর জেলার পাড়েরহাট মৎস্য পল্লিতে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের জন্য কেনা হয়নি নতুন কোনো কাপড়। এমনকি কেনা হয়নি সেমাই, চিনি, দুধসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। পহেলা মার্চ থেকে দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে কয়েক হাজার জেলে। অবরোধ শুরু হওয়ায় কয়েক হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ায় ঈদের আনন্দ অর্থহীন হয়ে গিয়েছে তাদের।

bbd66d90-0916-4ca9-bee2-bb05d6a756fe

জেলে পল্লীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবরোধের কারণে তারা কর্মহীন থাকায় তাদের হাতে কোনো অর্থ নেই। তাই তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামা কাপড় কিংবা চিনি, সেমাইসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেনি জেলেরা।

আরও পড়ুন

ঈদের আনন্দ আক্ষেপে কাটে পরিবারহীন ১৬০ শিশুর

পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭ নং শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের জেলে পল্লীর অধিকাংশ জেলে বেকার সময় পার করছেন। কেউ কেউ জাল সেলাই, কেউবা নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত। আবার অনেকেই অন্য কাজের সন্ধানে শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের চার মাসে প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল সরবরাহ করা হচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

8e803e8c-712a-41b1-b2f2-c34fc94647ac

জেলে পরিবারের সদস্য সুমাইয়া আক্তার বলেন, একে তো অবরোধ তারপরে ঈদ। আমাদের পরিবারের দুইজন পুরুষ মাছ ধরে। দুইজনেই বর্তমানে অলস সময় কাটায়। মাছ ধরতে না পারায় হাতে কোনো টাকা নেই, তাই বাচ্চাদের জন্য ঈদে কোনো জামা কাপড় কিনে দিতে পারি নাই। ঈদের দিনে একটু যে সেমাই রান্না করব সেই টাকাও নেই।

আরও পড়ুন

জেলে আউয়াল শেখ বলেন, সাগরে যেতে পারি না মাছ ধরতে। একটু নদীতে মাছ ধরতাম তাও সরকার দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অন্য কোনো কাজ না থাকায় হাতে কোনো টাকা নেই। বাচ্চাকাচ্চার জামা কাপড় কিনে দেব ঈদে সেই টাকাও নেই। জামা কাপড় কেনার টাকা তো দূরের কথা ঈদের দিন যে একটু নুডুলস কিনব বা মাংস কিনব সেই টাকাও নেই। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করতো তাহলে ভালো হতো।

8e803e8c-712a-41b1-b2f2-c34fc94647ac

জেলে মাসুম হোসেনের স্ত্রী উর্মি বলেন, বাচ্চাকাচ্চা খাবারের জন্য চিল্লাপাল্লা করে কিন্তু তাদের ঠিকমতো খাওয়াতে পারি না। ঘরে চাল নেই, ঈদের জামা কাপড় আসবে কোথা থেকে। সরকার যে ৪০ কেজি চাল দেয় তা দিয়ে কয়দিন যায়। ঈদের দিন দরজা দিয়ে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমাদের সেমাই কেনার সমর্থ নেই, বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনতে পারিনি।

6be7a17a-acbb-40af-a8e5-9dd008c805ba

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, পিরোজপুরে জাটকা সংরক্ষণ এবং অবৈধ জাল নির্মূল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলায় ১৮ হাজার ২ শত ৫০ জন জেলেকে ২৯ শত ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কর্মহীন জেলেদের সরকারি সহায়তায় ঈদ পণ্য সামগ্রী বিতরণের দাবি জানিয়েছেন কয়েক হাজার জেলে পরিবার।

প্রতিনিধি/এসএস