জেলা প্রতিনিধি
২০ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রমজান শেষ ঈদ উদযাপনের জন্য অনেক কিছুই ছিল। বর্তমানে যা কেবলই স্মৃতি। শুধু যে স্মৃতি তা ই নয়। এই প্রজন্ম জানেই না যে, এমন কিছু উদযাপন ছিল। নিচে এমন কিছু স্মৃতি তুলে ধরা হলো-
ঈদে কাগজের টুপি
ঈদ আসলেই নতুন পোশাকের চাহিদা সবারই থাকে এবং ছিল। বিশেষ করে পাঞ্জাবি পায়জামার চাহিদা ছিল অনেক বেশি। তবে এর মাঝে অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাগজের টুপির। ঈদের দুইতিন দিন আগে থেকেই রঙিন কাগজের তৈরি টুপি বিক্রি হতো বাজারে। বিশেষ করে এই টুপিগুলো বাজারের ফুটপাতে বিক্রি হতো।

ঈদ কার্ড
ঈদে প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানানোর নিয়ম এখনকার মতো আগেও ছিল। তবে পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। বিভিন্ন ডিজাইনের ঈদ কার্ড সে সময় প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া হতো। ঈদ কার্ড গুলোতে ঈদের মসজিদ, মিনারের ছবি থাকতো। সেই ছবির মাঝে ঈদ মোবারক লেখা থাকতো। লেখার মাঝে বিভিন্ন রঙের বাদলায়, পুঁতি ব্যবহার করা হতো। এসব ব্যবহারের কারণে লেখা চকচক করত। ঈদের তিন চার দিন কিংবা সপ্তাহ আগে বাজারে রঙিন এই ঈদ কার্ড বিক্রি করা হতো।

দল বেধে সিনেমা দেখা
ঈদ পনেরো বিশ দিন আগে থেকেই কোন সিনেমা হলে কোন সিনেমা দেখানো হবে তার বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো মাইকে। বিশেষ করে ঈদ আসলে ডাক-ঢুল পিটিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। আর সিনেমার বড় বড় পোস্টার বিভিন্ন দেওয়ালে লাগানো হতো। এলাকার ছেলেরা দল বেধে বিভিন্ন হলে সিনেমা দেখতে যেত। হলগুলোতে ঈদের এই সিনেমার আমেজ থাকতো ঈদের পরে দশ থেকে পনেরো দিন পর্যন্ত। সিনেমা দেখতে যাওয়ার জন্য যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সাইকেল ব্যবহার করা হত। তখন খুব বেশি মানুষের ঘরে সাইকেল না থাকলেও বাজারের কিছু ঘরে সাইকেল ঘণ্টা, আধা বেলা, এক দিনের জন্য ভাড়া দেওয়া হত। ঘণ্টায় ২ টাকা, অর্ধবেলা পাঁচ টাকা, সারা বেলা দশ টাকা করে সাইকেল ভাড়া দেওয়া হতো। দুইজনে একটি সাইকেল ভাড়ায় চালানো হতো বেশি। একজন কিছু রাস্তা সাইকেল চালিয়ে নিলে অন্যজন সাইকেলের পিছনের ক্যারিয়ারে বসে থাকত। সিনেমা হলে টিকেট কাটার অনেক ভিড় হতো। ভিড়ে কখনো কখনো দুষ্ট ছেলেরা ব্লেড দিয়ে হাত, কাপড় কেটে দিত৷

গ্রামীণ খেলার আয়োজন
ঈদ আসলে ঈদ উপলক্ষে ফুটবল, দাঁড়িয়া বাধা, রশি টান, লাঠি বাড়ির মতো খেলার আয়োজন হতো। বিশেষ করে বিবাহিত বনাম অবিবাহিত ফুটবল খেলা জমতো অনেক বেশি।

দলে দলে নদীতে গোসল
ঈদের দিন খুব ভোরেই সবার ঘুম ভাঙত। যার ঘুম আগে ভাঙতো সে অন্যদেরকে ডেকে দিত। এরপরে সবাই দলে দলে নদীতে গোসল করতে যাওয়া হতো। বিশেষ করে নিতুন সাবান দিয়ে গোসল করে বাড়িতে এসে নতুন জামা পরে ঈদে যাওয়া হতো।
বাজারে ভিডিও দেখা
এক সময় বাজারে সিনেমা দেখানোর দোকান ছিল। দোকানগুলোতে দুই টাকা পাঁচ টাকা নিয়ে একটি করে সিনেমা দেখানো হতো। ঈদে যারা সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যেতে পারতো না তারা এসব দোকানে সিনেমা দেখতো।

বাড়িতে সিনেমা দেখার আয়োজন
গ্রামের বাড়ি থেকে টাকা উঠিয়ে টিভি, সিনেমা ক্যাসেট, ব্যাটারি ভাড়া করে আনা হতো। বিশেষ করে রাতের জন্য ভাড়া করা হতো। গ্রামের সব থেকে বড় উঠানে নয়টা দশটার দিকে সিনেমা চালানো হতো। গভীর রাত পর্যন্ত সবাই মিলে সিনেমা দেখতো।

শহরের মানুষকে দেখতে যাওয়া
এমন এক সময় ছিল যে, গ্রামের মাঝে এক দুই জন ঢাকা কিংবা অন্যান্য শহরে চাকরির জন্য থাকতো। ঈদ এলে তারা যখন বাড়িতে আসতো গ্রামের সবার মাঝে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করত। সবাই ছুটে যেত দেখার জন্য।

বিটিভির বিশেষ আয়োজন
সে সময় গ্রামের এক দুই জনের বাড়িতে টিভি ছিল। বেশি টিভি ছিল সাদা কালো। ডিশ লাইন তো ছিলই না। যার কারণে বিটিভি ছিল একমাত্র ভরসা। বিটিভিতে ঈদ উপলক্ষে পাঁচ কিংবা সাত দিনের বিশেষ আয়োজন ছিল। আয়োজনে সিনেমা, নাটক, হানিফ সংকেতের ইত্যাদি ছিল বড় আকর্ষণ।
অতীতের ঈদের এসব আয়োজন এখন কেবল স্মৃতি।
প্রতিনিধি/এসএস