images

সারাদেশ

ঈদ ঘিরে প্রস্তুত লালমনিরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলো, প্রশাসনের সতর্কতা

জেলা প্রতিনিধি

২০ মার্চ ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

রাত পোহালেই ঈদুল ফিতর। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। ঈদের ছুটিতে প্রস্তুত করা হয়েছে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এনিয়ে নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যান। তাই বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ঈদে পর্যটন স্পটগুলোয় পর্যটকদের ভিড় থাকে বেশি। পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে ঈদের আগে থেকেই এসব স্পটে চলে সংস্কারকাজ। এরই মধ্যে লালমনিরহাটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ঈদুল আজহার ছুটিতে এসব স্থানে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।

7d624736-2f47-45a1-b708-ddd80ac0e00e

প্রতি বছর পাটগ্রাম উপজেলার আন্তর্জাতিক তিনবিঘা করিডোর, বুড়িমারী স্থলবন্দর, রাবার ড্যাম, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ, স্থানীয় নওদাবাস শালবন, কালীগঞ্জ উপজেলা ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সংযোগস্থল কাকিনা-মহীপুর ঘাট এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত মহিপুর সেতু, লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা সড়ক সেতু ও তৎসংলগ্ন বিনোদন পার্ক, জেলা শহরের শেখ রাসেল শিশুপার্ক, আনন্দলোক পার্ক, কুলাঘাটের পাশে নির্মিত ধরলা সেতুতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ ভিড় করে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী চার-পাঁচদিন পর্যন্ত চলে এসব স্পটে পর্যটকদের আনাগোনা।

বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ঈদের সময় প্রতিবারই লালমনিরহাটে বিভিন্ন জেলার মানুষ তিনবিঘা করিডোর দেখতে দহগ্রামে বেড়াতে আসে। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপরতা প্রয়োজন।

b0492f59-3164-4636-a247-d53b0e6b44af

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান বলেন, আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী যারা জেলার বাইরে পড়ালেখা করেন তারা ঈদের ছুটিতে এসে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যান। বিনোদন পার্কগুলোয় ঈদ-পরবর্তী সময়ে আসা দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো উচিত।

আরও পড়ুন

ঈদে দর্শনার্থী বরণে নতুন সাজে ঠাকুরগাঁওয়ের পর্যটন কেন্দ্র ও পার্কগুলো

দিনাজপুরে সরকারি দপ্তরে চাকুরিরত মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় বিনোদন স্পট সেভাবে গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্রীয় কিছু স্থাপনা ঘিরেই মানুষজন বেড়াতে যায়। শহরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে শেখ রাসেল শিশুপার্কই বিনোদনের জন্য একমাত্র ভরসা। প্রতি বছরের মতো এবারো শিশুদের বিভিন্ন রাইডের পাশাপাশি বড়দের জন্যও নানা রকম আয়োজন থাকে এখানে। নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করে। এতে মানুষজন নিরাপদ অনুভব করে।

f123c3e9-1a4e-4132-b95b-88d7d0d8a538

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, যেসব স্থানে দর্শনার্থীদের সমাগম বেশি হবে সেখানে আমাদের বাড়তি নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি আমাদের টহল টিম সার্বক্ষণিক বিভিন্ন স্পট গুলোয় টহল দেবে। এছাড়া আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিও থাকবে যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আমরা ঈদে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করবো। এছাড়াও ছিনতাই, ইভটিজিং ইত্যাদি বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট থাকবে।

a3774a0b-c9b7-4125-9d39-6c36c9d2675d

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ঈদে দর্শনার্থীদের ঘোরাঘুরি নিয়ে আমরা সমন্বয় সভা করেছি। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন স্পট এবং স্থাপনায় বাড়তি নজরদারি রাখতে।

প্রতিনিধি/এসএস