জেলা প্রতিনিধি
১৯ মার্চ ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় মৎস্য বিভাগের অভিযান চালানো স্পিডবোট উল্টে মো. ফখরুল ইসলাম নামের এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ হয়েছেন। এসময় স্পিডবোটে থাকা আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এই ঘটনা ঘটে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুল ইসলাম লালমোহন মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানায়।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ভোলার চরফ্যাশনের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালমোহনের মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। একই সময়, মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মনিটরিং করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও ৩ জন কনস্টেবল মিলে একটি টিম স্পিডবোটে অভিযানে যায়। পরে লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় পেছনের প্রফেলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়।
ওই টিমে লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং পুলিশের ৩ জন কনস্টেবল ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৫ জন সাঁতরে তীরে উঠলেও তাদের সাথে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল নিখোঁজ হন।
এদিকে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনার পর নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নদীতে নেমে তল্লাশি চালাচ্ছেন। বরিশাল থেকে আলাদা ডুবুরি টিমও আসার কথা রয়েছে।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, অভিযানে যাওয়া স্পিডবোটটি নদীর মধ্যেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্রোতের টানে বোটটি ঘাটে ধাকা লঞ্চের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের নিচে বোটটি ঢুকে যাওয়ার সময় সবাই একদিক চলে গেলে বোটটি উল্টে যায়। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস