জেলা প্রতিনিধি
১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ঈদযাত্রায় গাজীপুরের ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। গাড়ির বাড়তি চাপ ও যাত্রী ওঠানামা, এলোমেলো পার্কিং ও উল্টো পথে অটোরিকশা চলাচল করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে ঢাকা টাঙ্গাইল ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রাতভর বৃষ্টিপাতের ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদাময় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এলোমেলো গাড়ি পার্কিং, রাস্তায় মানুষের ঢল ও সড়কের এক পাশে গাড়ি পার্কিং করায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এতে স্বাভাবিক গতিতে চলছে না গাড়ি।

গাড়ির কয়েক গুণ বেশি চাপ ও মানুষের ভিড়ের কারণে কবিরপুর থেকে চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর এবং আশেপাশের এলাকায় অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

এছাড়া ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তায় দেখা গেছে গাড়ির মন্থর গতি। চান্দনা চৌরাস্তায় সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং করায় লেন সংকুচিত হয়ে গেছে। এছাড়া যাত্রী ওঠানামা করায় এ পয়েন্ট অতিক্রম করতে যানবাহনগুলোর সময় বেশি লাগছে। এতে এই অংশে বাসন সড়ক থেকে তেলিপাড়া পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিড়ম্বনার শিকার হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান।

সিরাজগঞ্জগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা মিনহাজুল আবেদীন বলেন, বুধবার বিকেলে কারখানা ছুটির পর চন্দ্রা এলাকায় বাসের জন্য স্ত্রী সন্তান নিয়ে অপেক্ষা। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গাড়িতে উঠতে পারিনি। এরমধ্যে আবার শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। তখন ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাসায় ফিরে যাই। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই গাড়ির অপেক্ষা করছি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও বাসে উঠতে পারিনি। এখানে যাত্রীর চেয়ে গাড়ি কম।

যানজটের ভোগান্তির পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো। এতে যাত্রাপথে অনেকটা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন তারা। অনেক মানুষ অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় ট্রাক, পিক আপ ও অন্যান্য হালকা যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
ময়মনসিংহ যাবেন পোশাক শ্রমিক রাহেলা। এক ঘণ্টা ধরে বাসের অপেক্ষায় চান্দনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভার সংলগ্ন স্থানে বসা তিনি।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহ যাব, কিন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া চাইছে মহাখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো। এত ভাড়া দিয়ে কেমনে বাড়ি যাই?
ট্রাক যাত্রী নূরুল হুদা বলেন, ৫০০ টাকায় তিনি ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়েছেন। স্ত্রী, সন্তান ও পরিবার নিয়ে ঈদ করব। তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে এই ঝুঁকি নিতে হয়েছে।

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গি, স্টেশন রোড, গাজীপুরা এলাকায় দেখা গেছে ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। সেখানেও গাড়ি সংকট থাকায় পিকআপ, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে অতিরিক্ত ভাড়ায় গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন ঘরমুখো মানুষেরা।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক সওগাতুল আলম জানান, বুধবার দুপুরের পর তৈরি পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় একযোগে শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ গাজীপুর ছাড়ছেন। ফলে ঢাকা টাঙ্গাইল, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের ভিড় ও জটলা দেখা গেছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে চন্দ্রা, ওয়ালটন কারখানা থেকে কালিয়াকৈরের বাইপাস সড়ক পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য সংস্থার লোকজন কাজ করছে।

গাজীপুরে বুধবার প্রায় ২ হাজারের মতো শিল্পকারখানা ছুটি হয়েছে। ফলে দুপুর থেকেই মহাসড়কে যাত্রী বেড়েছে কয়েকগুণ। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর অন্যান্য হাজার খানেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হবে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) এডিসি অমৃত সূত্রধর জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে মহাসড়কে গাড়ি ও যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রায় এবং গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ সরকারের স্থানে স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর বৃষ্টি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। অনেকেই রাতে যাত্রাবিরতি করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ঈদযাত্রা শুরু করেছেন। এতে ভোরে আবার গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে। দুপুরের মধ্যেই এ চাপ কমে যাবে আশা করছি।
প্রতিনিধি/এসএস