জেলা প্রতিনিধি
১৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। তার প্রমাণ তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। তিনি মাত্র একমাসের মাথায়সহ খাল পুনঃখননসহ নির্বাচনীয় প্রতিশ্রুতি একের পর এক বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় খাল পুনঃখনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করাসহ খাদ্য রপ্তানি করতে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল-বিল, জলাশয় খনন, পুনঃখনন শুরু হয়েছে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের নদী-খালগুলো জেগে উঠছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলকে শস্যভাণ্ডার হিসেবে আমরা ফিরে পাবো।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। আগে যেখানে টিউবওয়েলে ২০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, সেখানে এখন ৪০ ফুটেও পানি পাওয়া যায় না। রমাকান্ত খাল খনেন মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে, কয়েক হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। এছাড়া খালের দু’পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের উত্তরাঞ্চলে যে পরিমাণ গাছপালা থাকার দরকার, তা নেই। রয়েছে মাত্র ৭ ভাগ, যা দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে ২৫ থেকে ২৮ ভাগ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। তাই খাল খননের পাশাপাশি আমরা সবুজায়ন করবো। এছাড়া খনন করা খালে মাছ চাষ, হাঁস চাষ করে গ্রামের মানুষ স্বনির্ভর হতে পারবেন। এসব খাল খনন স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে করানো হবে। এর মধ্যে খাল খনন কাজের শতকরা ৩৫ ভাগ শ্রমিকরা করবেন ও বাকী ৬৫ ভাগ করা হবে মেশিনের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে যে-সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবগুলো বাস্তবায়ন করছেন। এর মধ্যে ১৩২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার রমাকান্ত খালের ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পুনঃখননে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধান বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে, ১৫০ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি দ্বারা সম্পূরক সেচ দেওয়া যাবে, প্রকল্প এলাকায় মৎস্য, জলজ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং খনন কাজে নিয়োজিত ১ হাাজার ৩৪৪ জন শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা হবে। ২১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া রমাকান্ত খাল পুনঃখনন কাজ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে।
প্রতিনিধি/ এজে