images

সারাদেশ

শিল্পকারখানায় ছুটি, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রায় দীর্ঘ যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে আপন নীড়ে ছুটছেন কর্মজীবী মানুষ। এর মধ্যেই বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। যানবাহনের তীব্র চাপ ও ঘরমুখী মানুষের ঢলে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা–নবীনগর সড়কের প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল গড়াতেই শিল্পঅধ্যুষিত গাজীপুরের কয়েকশ শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটি পেয়েই কর্মজীবী মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওনা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনালের আশপাশের ২১ কিলোমিটার থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুর বাইপাস থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের আশুলিয়ার বাইপেল থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আজ দুপুরের গাজীপুরের ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল সোয়া চারটার দিকে গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে নেমেছেন হাজারো যাত্রী। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীর চাপের পাশাপাশি ছোট–বড় যানবাহনের সংখ্যাও কয়েক গুণ বেড়েছে। এতে চন্দ্রা টার্মিনালে যানবাহন প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে জেলার কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা–নবীনগর সড়কের আরও ৬ কিলোমিটার এলাকায় নজিরবিহীন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন।

দূরপাল্লার একটি বাসের যাত্রী আল মাহাদী বলেন, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠেছি। এক ঘণ্টায় গাড়ি মাত্র এক কিলোমিটার এগিয়েছে। ধীরে ধীরে যানজট বাড়ছে। ছয় ঘণ্টার পথ ১২ ঘণ্টায় শেষ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

বাসচালক মাহতাবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই যানজট বেড়েছে। পুলিশের তৎপরতা তেমন চোখে পড়ছে না। এভাবে চলতে থাকলে যানজট আরও বাড়তে পারে। এতে পরিবহনশ্রমিক ও যাত্রী—সবারই কষ্ট বাড়বে।

চন্দ্রা টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িতে ওঠার অপেক্ষায় আছি। যানজটের কারণে গাড়িই আসছে না। এই সুযোগে পরিবহনগুলো ভাড়া বাড়িয়েছে। প্রশাসনের তেমন কোনো হস্তক্ষেপও দেখা যাচ্ছে না।

যানজটের বিষয়ে জানতে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

হাইওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানান, নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব ভাগ করা রয়েছে। যানজট নিরসনে অন্য ইউনিট কাজ করছে।

এদিকে চন্দ্রা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পাশে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেলেও সড়কে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কয়েকটি পয়েন্টে দিনভর পুলিশ থাকলেও বিকেলের পর তাদের উপস্থিতি কমে যায়।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, দুপুরের পর থেকে রিজার্ভ বাসের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।

এআর