জেলা প্রতিনিধি
১৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
বাগেরহাটের দুটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ পর্যটক বরণে প্রস্তুত। ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটিকে সামনে রেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বরণে নতুন করে সেজেছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাগেরহাটের দুটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ অপরূপ দৃশ্য দেখতে ছুটে আসছেন শত শত পর্যটকরা। আসছে বিদেশি পর্যটকও। রোজা শেষ না হওয়ায় এখনো পর্যটকদের উপচে পড়া ঢল শুরু হয়নি। সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুন্দরবন বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বলছে, ঈদের দিন থেকেই এই দুটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইডে পর্যটকদের ঢল নামা শুরু হবে। তবে, শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর পাড়ে রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে বঙ্গোপসাগর মোহনায় সূর্যাস্ত দেখতে এই কেন্দ্রটিতে ভিড় করছেন হাজার হাজার পর্যটক। এদিকে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ টুরিস্ট পুলিশ।

দিনাজপুর জেলা থেকে সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদে দেখতে আসা আলী উদ্দিন জানান, আমি সরকারি চাকরি করি। ঈদের টানা ছুটি কাটাতে বন্ধুদের নিয়ে বাগেরহাটের দুটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে এসেছি। সুন্দরবনের করমজল ইকোট্যুরিজম দেখার পর এখন ষাটগম্বুজ মসজিদের প্রাচীন এ নিদর্শন দেখতে পেরে ভালো লাগছে। জীবনে অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল সুন্দরবন ও ষাটগুম্বুজে আসা। এতদিন সময় হয়ে ওঠেনি। আজ আসতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।

কুমিল্লা থেকে আসা জোবায়ের রহমান জানান, গতকাল শরণখোলার বলেশ্বর রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে দেখে আজ হজরত খানজাহান আলী (রহ:) মাজার হয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদে এসে দেখে অনেক ভালো লাগছে। এদের মতো অনেক দেশি বিদেশি ভ্রমণ পিপাসুরা সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও শরণখোলার বলেশ্বর রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে এসে তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
ঢাকা থেকে আসা লাইজু আক্তার নামে এক দর্শনার্থী বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়া ষাট গম্বুজ মসজিদের কথা বইয়ে পড়েছি। প্রাচীনতম এ নিদর্শন দেখতে পরিবারসহ এসেছি। পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেছি, অনেক ভালো লেগেছে। এখানে আবার আসব।
সুন্দরবনে ঘুরতে আসা নোমান আহমেদ বলেন, অনেক দিন থেকে ইচ্ছা ছিল সুন্দরবন ঘুরতে আসব। ঈদে ৭ দিনের ছুটি পেয়েছি, বন্ধুদের নিয়ে সুন্দরবনে চলে এলাম। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। বিভিন্ন রকম বন্যপ্রাণী দেখলাম। নিজ হাতে হরিণকে গাছের পাতা খাইয়েছি। কাছ থেকেই বানরের লাফালাফি দেখেছি।

প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগের ষাটগম্বুজ মসজিদের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ জানান, একটানা ৭ দিনের ঈদের সরকারি ছুটিতে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। রমজান থাকায় এখনো পর্যটকদের উপচে পড়া ঢল এখনো শুরু হয়নি। ঈদের দিন থেকেই এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইডে পর্যটকদের ঢল নামাবে। পর্যটকদের ঢল সামাল দিতে আমরাসহ টুরিস্ট পুলিশ সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার মো. আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের আগমন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাড়াও হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, আলীবান্ধ, কটকা, কচিখালী, জামতলা, সিবিচ, টাইগার পয়েন্ট, দুবলা, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, ত্রিকোণ আইল্যান্ড, কলাগাছি ও দোবেকি পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। ঈদের দিন থেকে সুন্দরবনের এসব পর্যটন এলাকায় হাজারো পর্যটকের ঢল নামবে। পর্যটকদের ভিড় সামাল দিতে সুন্দরবন বিভাগ সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছে। করমজলের এই পর্যটন কেন্দ্রটি দর্শনার্থীদের কাছে আরও মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ঝুলন্ত ব্রিজসহ নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সেক্রেটারি নাজমুল আযম ডেভিট বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে পর্যটকের প্রবাহ বাড়লেও গত বছরের তুলনায় কমসংখ্যক পর্যটক সুন্দরবনে যাচ্ছেন।
টুরিস্ট পুলিশ বাগেরহাট জোনের ইন্সপেক্টর মো. শরিফুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ বাগেরহাট জোনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুত সম্পন্ন করা হয়েছে। পর্যটকদের সব প্রকার সুবিধা -অসুবিধায় পাশে থাকবে সব টুরিস্ট।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে পর্যটকের যাতায়াত বেড়েছে। সুন্দরবনে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের গাইড সাপোর্টসহ সার্বিক নিরাপত্তায় বনরক্ষীরা নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এসএস