জেলা প্রতিনিধি
১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে অন্যতম বান্দরবান। আঁকাবাঁকা পথ, উঁচুনীচু সবুজ পাহাড়, মেঘ, নদী, জলপ্রপাত আর ঝরনার মিলনে গঠিত এই জেলা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। ভ্রমণপিপাসুদের মনের সব খোরাক যেন এই জেলাতেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পাহাড়কন্যা খ্যাত এই জেলায় রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তাই পাহাড় ও মেঘের স্বর্গরাজ্য দীর্ঘ ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের জন্য আদর্শ স্থান হচ্ছে বান্দরবান। আর পর্যটক বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখে জেলা প্রশাসন।
ভ্রমণপিপাসুদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ও মুগ্ধ করে দেবতাখুম। বান্দরবান রোয়াংছড়ির দেবতাখুম-এ ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের হতে পারে প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। নিরাপত্তার জনিত কারণে দেবতাখুম দীর্ঘ দুই বছর পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা ছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক ভ্রমণের দুয়ার খুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ৩৩ মাস পর গতবছরের ৫ জুন রুমা ও থানচি পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রশাসন। অন্যদিকে গত বছরের অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে কেওক্রাডং পাহাড় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় স্থানীয় প্রশাসন।

বান্দরবানে আগত পর্যটকদের জন্য নীলাচল, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, গোল্ডেন টেম্পল, শৈলপ্রপাত, ঝরনা, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাখুম, রুমা উপজেলার রহস্য ঘেরা বগালেক, কেওক্রাডং পাহাড়, থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী, তিন্দু ইউনিয়নের রাজা পাথর, রেমাক্রি ফলস, লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালি এবং আলীকদম উপজেলার আলী সুড়ঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণের কোনো বাধা-নিষেধ নেই। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন ঢাকা মেইলকে জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এরই মধ্যে ২৩-২৪ মার্চ জেলার অধিকাংশ কটেজ, রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বাকি দিনগুলোতে অন্যগুলিও শতভাগ বুকিং পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া, পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা পর্যটক বরণে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলে জানান তিনি।

টুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী ঢাকা মেইলকে জানান, টুরিস্ট পুলিশের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নির্বিঘ্নে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের ছুটিতে দেবতাখুম, নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও গম্বুজসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই শিফটে টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তিনি পর্যটকদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি ঢাকা মেইলকে জানান, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গাড়ি ভাড়া অতিরিক্ত না নেওয়া, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবারের মান বজায় রাখা এবং আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়া সহনীয় রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।
প্রতিনিধি/এসএস