জেলা প্রতিনিধি
১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এখন পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ছুটির পুরো সময়জুড়ে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকবে সৈকত এলাকা।
রমজান মাসজুড়ে পর্যটকের আনাগোনা কম থাকায় ব্যবসায় কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও, ঈদকে সামনে রেখে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সৈকতজুড়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেট স্কি, বিচ বাইক, ঘোড়ায় চড়া, কিটকট ও ফটোগ্রাফিসহ নানা বিনোদন সেবা সাজিয়ে রাখা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। পাশাপাশি শামুক-ঝিনুক, শুঁটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরাও তাদের দোকান নতুন পণ্যে সাজিয়েছেন।
পর্যটকদের আবাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে হোটেলগুলোর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন দিতে হোটেলগুলোতে থাকছে বুফে ডিনার, লাইভ মিউজিক ও বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ১৯ মার্চ থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করতে পারে, তবে মূল ভিড় শুরু হবে ২৩ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে। প্রতিদিন গড়ে লক্ষাধিক পর্যটকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশ, সাদা পোশাকের নজরদারি টিম এবং গোয়েন্দা সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি টিম পালাক্রমে মাঠে কাজ করছে যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন।’
বর্তমানে সমুদ্র কিছুটা উত্তাল থাকায় সি সেফ লাইফ গার্ডের কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পর্যটকদের শুধুমাত্র নির্ধারিত পয়েন্ট লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীতে গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কয়েক ডজন লাইফগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবক সৈকতে দায়িত্ব পালন করছেন।
আচারের দোকানদার মুজিব উল্লাহ জানান, ঈদ উপলক্ষে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে নানা পণ্য সংগ্রহ করে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। অন্যদিকে ফটোগ্রাফার একরাম উদ্দীন ও কিটকট ব্যবসায়ী আমির হামজা জানান, দীর্ঘ এক মাস পর পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে তারা ব্যবসার সুদিন ফেরার আশা করছেন।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় মানুষের মধ্যে ভ্রমণের প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ফলে এবারের ঈদে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/একেবি