images

সারাদেশ

ভারতের রেললাইনে বাংলাদেশি তরুণীর মরদেহ

জেলা প্রতিনিধি

১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

মেয়ের সুখের আশায় এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে অল্প বয়সে তাকে ভারতে বিয়ে দিয়েছিলেন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রদীপ রায় ও আরতী রায় দম্পতি। তবে বিয়ের মাত্র আট বছরের মাথায় সেই মেয়েরই ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ভারতের একটি রেললাইন থেকে। মর্মান্তিক এই মৃত্যু হয়েছে অদিতী সরকার ওরফে তিথির (২৫)। 

গত ৪ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাকদহ পালপাড়া রেললাইন থেকে অদিতীর বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

২০১৮ সালে কল্যাণ নামে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে অরিন্দম সরকারের সাথে অদিতীর বিয়ে হয়েছিল। তাদের ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। নাম দিব্য সরকার। 

জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে অরিন্দমের পরিবার বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চাকদহ পালপাড়ায় স্থায়ীভাবে চলে যায়। তারা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অরিন্দমের আয়ের একমাত্র উৎস ‘অরিন্দম গ্যালারি’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল, যেখানে বিধায়ক অসীম সরকারের গান আপলোড করা হয়।

অদিতীর মা আরতী জানান, গত ৩ মার্চ সকালে অদিতীর সাথে তার হাসিখুশিভাবে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে একাধিকবার ফোন করার পর কেউ রিসিভ না করায় তিনি আর কথা বলতে পারেননি। এরপর ভারতে তাদের আরেক আত্মীয়ের মাধ্যমে অদিতীর শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিলে তারা জানায় যে, অদিতী স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে কোনো এক ব্যক্তির সাথে পালিয়ে গেছে। অথচ এর পরদিনই বাড়ির কাছে পালপাড়া রেল স্টেশনে অদিতীর মরদেহ পাওয়া যায়।

আরতীর অভিযোগ, অদিতীর শাশুড়ি তপতী সরকার ও স্বামী অরিন্দম সরকারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে অদিতীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তারাই পরিকল্পিতভাবে অদিতীকে হত্যা করে মরদেহটি রেললাইনে ফেলে রেখেছেন। এছাড়া বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের সাথে অরিন্দমের ঘনিষ্ঠতার কারণে স্থানীয় পুলিশও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরতী আরও জানান, অরিন্দমের আগেও একটি বিয়ে ছিল যা তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশের বাগেরহাটের ফকিরহাটে থাকাকালীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অরিন্দমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর সে পালিয়ে ভারত চলে যায়। 

ভারতে অরিন্দমের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অদিতীর সাথে প্রতিবেশীদের অত্যন্ত সুসম্পর্ক থাকায় তারা কেউই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। অদিতীর সেখানে কোনো নিকটাত্মীয় না থাকায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অদিতীর মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

প্রতিনিধি/একেবি