জেলা প্রতিনিধি
১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
গাজীপুরের ৯৫ শতাংশ কলকারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন এবং ৯১ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদে ছুটিতে যাওয়ার আগেই বাকি কারখানাগুলোর বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হবে।
ঈদযাত্রায় যানজট এড়াতে এবারও ধাপে ধাপে পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি মঙ্গলবার থেকে শুরু হলেও সোমবার বিকেল থেকেই অনেক শ্রমিক বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটি সাত দিনের হলেও পোশাক কারখানাগুলোতে সাত থেকে দশ দিনের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। শিল্প পুলিশ ও কারখানা মালিকদের সর্বসম্মতিক্রমেই এই ধাপে ধাপে ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল থেকে অনেক পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এতে শ্রমিকরা টানা চার দিন ধরে ধাপে ধাপে গন্তব্যে রওনা হতে পারবেন, যা সড়কপথে যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “শ্রমিকদের ঈদযাত্রায় যাতে কোনো ভোগান্তি না হয়, সেজন্য কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম জানান, মহানগর এলাকায় যানজট নিরসনে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে পেট্রোল টিম ও মোবাইল টিমের পাশাপাশি প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। রাস্তায় বিকল যানবাহন সরাতে নয়টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চান্দনা-চৌরাস্তায় ফ্লাইওভারের ওপরের অংশ খুলে দেওয়ায় এবার এই এলাকায় যানজট অনেক কম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
রোববার পর্যন্ত গাজীপুরের ৯৫ শতাংশ কারখানায় বেতন এবং ৯১ শতাংশ কারখানায় বোনাস প্রদান করা হয়েছে। ফলে ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এছাড়া গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং কালীগঞ্জ এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের আট শতাধিক সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
প্রতিনিধি/একেবি