জেলা প্রতিনিধি
১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
বান্দরবানে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক নির্মাণকাজে রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিং করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। সেই সঙ্গে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
বান্দরবান সদর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে বান্দরবান সদর ইউনিয়নের রেইছা থেকে গোয়ালিয়া খোলা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক তিনটি প্যাকেজে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউটি মং, মিল্টন ট্রেডার্স জেভি’ ও ‘এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা’। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান সদর ইউনিয়নের রোয়াজা পাড়া সংলগ্ন অংশে রাস্তা প্রশস্তকরণ চলাকালে মাঝখানে বিদ্যুৎতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিং করা হয়েছে। খুঁটি না সরিয়েই কার্পেটিং করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইজিবাইক চালক সুজন মারমা বলেন, ‘রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুৎতের খুঁটি থাকায় গাড়ি চালানো খুব ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। দ্রুত এই খুঁটি সরানো প্রয়োজন।’
গোয়ালিয়া খোলার স্থানীয় বাসিন্দা নু মং মারমা অভিযোগ করেন, ‘শুধু রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে কার্পেটিং করাই নয়, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ বিষয়ে বান্দরবান সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অং সাহ্লা মারমা বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে সড়ক নির্মাণের জন্য একাধিকবার বলা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।’
বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন মাসুম জানান, এলজিইডি সম্প্রতি খুঁটি সরানোর বিষয়ে তাদের জানিয়েছে। সামনে ঈদ থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে আছেন, যে কারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া খুঁটি অপসারণ করতে চট্টগ্রাম থেকে ক্রেন আনতে হয়। ঈদের পরপরই দ্রুত খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
রাস্তার ওপর খুঁটি রেখে কার্পেটিং করার বিষয়ে বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সড়ক নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে।’
প্রতিনিধি/একেবি