জেলা প্রতিনিধি
১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা পাচ্ছিলেন না সুমাইয়া ফারহানা হাওয়া। অবশেষে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে তার বাবা খোকন মিয়া জানতে পারেন ভাতা যাচ্ছে অন্যজনের মোবাইল নম্বরে। এ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়।
গত রোববার (৮ মার্চ) খোকন মিয়া ভাতার টাকা ফেরতসহ এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) ইউএনও আমেনা খাতুন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া ফারহানা হাওয়া উপজেলার শুকদেবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে।
অভিযোগে ভুক্তভোগীর বাবা খোকন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন আগে স্থানীয় সাবেক সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মাকসুদা আক্তার তার মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকা নেয়। সেইজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনে খোকন মিয়া তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে নগদ অ্যাকাউন্ট খুলে সেটি লিখে দেন। তবে বছর পার হলেও তার মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছিলেন না। সম্প্রতি সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে খোকন মিয়া জানতে পারেন এক বছরের বেশি সময় ধরে তার মেয়ের ভাতা যাচ্ছে প্রতিবেশী সাইদুর মিয়া নামে ব্যক্তির মোবাইল নাম্বারে। ভাতার টাকা ফেরত চাইলে সাইদুর মিয়া জানান-তিনিও সাবেক নারী ইউপি সদস্য মাকসুদা আক্তারকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য। এটা সেই কার্ডের টাকা তিনি পাচ্ছেন।
পরে টাকা ফেরত পাওয়াসহ এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ৮ মার্চ ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন খোকন মিয়া। তবে অভিযোগের পর সাবেক নারী ইউপি সদস্য মাকসুদা আক্তারকে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সাবেক নারী ইউপি সদস্য মাকসুদা আক্তার ভাতার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য কাজ করছি। আগের দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা এসব ঝামেলা তৈরি করে গেছে।
সাইদুর মিয়া বলেন, ভাতার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। মোবাইলের নগদ অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটমেন্ট পেতে কয়দিন সময় লাগছে। বিষয়টা আমরা মিমাংসা করে নেব।
ভুক্তভোগীর বাবা খোকন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন আগে মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেছি। ভাতা করার জন্য মাকসুদা মেম্বারকে পাঁচ হাজার টাকাও দিয়েছি। কিন্তু মেয়ের ভাতা পাচ্ছিলাম না। সম্প্রতি সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি, মেয়ের ভাতা চালু হয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু সেই ভাতার টাকা যাচ্ছে অন্য একটি নাম্বারে। ওই নাম্বার প্রতিবেশী সাইদুর মিয়ার, কিন্তু তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনিও নাকি ভাতার জন্য মাকসুদা মেম্বারকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন। তাই ভাতার টাকা ফেরত দিতে রাজি হননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিক উদ্দীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ দেওয়ার পর উভয় পক্ষই অফিসে এসেছেন। ভাতার টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরের স্টেটমেন্ট তুলতে বলা হয়েছে। স্টেটমেন্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস