জেলা প্রতিনিধি
১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
নোয়াখালীর হাতিয়ায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মো. মিলন (৪০) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজুকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। এর আগে রোববার বিকেলে ও সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব-১১-এর প্রেস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ভুক্তভোগীর সঙ্গে মো. মিলনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে মিলন বিয়ের পর থেকেই দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় এবং তুচ্ছ ঘটনায় প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।
গত ১২ মার্চ সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের আল-আমিন গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে মিলন তার প্রথম স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে স্থানীয় আবুসায়েদ বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর মিলনসহ অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ভিকটিমের ছোট ভাই হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে র্যাব-১১ (সিপিসি-৩, নোয়াখালী) এবং র্যাব-৭ (পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম) যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোড সংলগ্ন ছোটপুল এলাকা থেকে মূল ঘাতক মো. মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হালিশহর বড়পোল মোড় এলাকা থেকে মামলার ৪ নং আসামি ও মিলনের দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজুকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
প্রতিনিধি/এসএস