images

সারাদেশ

রেজুলেশন করে ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি: প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০

জেলা প্রতিনিধি

১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অন্নদানগর ইউনিয়নে প্রশাসকের নিজের জন্য ৩৭৭টি এবং ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য ১২০০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দের প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশন ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্মদিয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) সকালে ভিজিএফ কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের গত ৫ মার্চের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের কপি পাওয়া যায়। রেজুলেশনটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পরে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বিভিন্ন খাতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ইউনিয়ন প্রশাসকের জন্য ৩৭৭টি কার্ড এবং দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

সেই হিসেবে ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য ২৭০টি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭৫টি, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি কার্ড বিতরণের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জন্য পৃথকভাবে আরও ২৭৫টি করে কার্ড বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

তবে ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে সেই কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অত্র উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৩৯৭টি কার্ডের বিপরীতে ৪৮৩.৯৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কল্যাণী ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি, পারুল ইউনিয়নে ৫,৯৮৬টি, ইটাকুমারী ইউনিয়নে ৪,০৮৬টি, অন্নদানগর ইউনিয়নে ৪,৭৯৭টি, ছাওলা ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, তাম্বুলপুর ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, পীরগাছা ইউনিয়নে ৭,০৯৮টি, কৈকুড়ী ইউনিয়নে ৫,২৮৬টি ও কান্দি ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়।

এদিকে, প্রশাসন ও রাজনীতির ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগির রেজুলেশনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভিজিএফের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বণ্টনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না।

অন্যদিকে, কার্ড ভাগ বণ্টনের বিষয়টি প্রকাশ হলে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান। এ সময় তিনি হারুন অর রশিদ বাবু নামে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কার মাধ্যমে বিতরণ হলো সেটা মুখ্য বিষয় না। তবে সবাই যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। ওই বিষয়টি জানার পর প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি