জেলা প্রতিনিধি
১৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিয়ে আসা হয় বুলডোজার এবং শুরু করা হয় মাইকিং।
তবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই তাদের দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৬ শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বেই তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে দোকানের সংখ্যা এবং মালামাল বেশি হওয়ায় তারা আরও সময়ের জন্য আবেদন করেন। সে অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা দোকানপাট সরিয়ে নেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে সৈকতের অন্যান্য পয়েন্টেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
উচ্ছেদের আগে নিজ উদ্যোগে সরে যাওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, মন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। তবে তারা আশা করছেন, সরকার তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই পয়েন্টে পর্যটকদের কাছে বার্মিজ পণ্য বিক্রি করে ১১ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতাম। এখন মন্ত্রীর সহানুভূতিশীল দৃষ্টির অপেক্ষায় আছি।”
শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু এই কষ্ট ও বেদনা আমাদের বুকটা ভেঙে দিচ্ছে। ঈদের ব্যবসার আশায় আমরা অনেকেই ঋণ নিয়ে দোকানে পুঁজি খাটিয়েছিলাম। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

বার্মিজ পণ্যের দোকানদার মুজিব উল্লাহ বলেন, ‘রমজানজুড়ে ভালো বিক্রির আশায় দোকানে মালামাল তুলেছিলাম। এখন সেই পণ্য নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে চলব, তা বুঝতে পারছি না।’
প্রশাসনের এ উদ্যোগে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
প্রতিনিধি/একেবি