জেলা প্রতিনিধি
১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জোড়া হত্যার ঘটনায় মজিদুল ইসলাম (২৪) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১৩।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
এর আগে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মজিদুল ইসলাম তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে।
র্যাব জানায়, শুক্রবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে জোড়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি মজিদুল ইসলামকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃতকে তারাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জোড়া হত্যার ঘটনা বিষয়ে যা জানা যায়, গত বছরের ৯ আগস্ট শনিবার দিবাগত রাতে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রুপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাদের। একপর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পান তারা। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা মব সৃষ্টি করে দুজনকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থা তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রুপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেরদিন ১০ আগস্ট নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাত ৫০০-৭০০ জনকে আসামি করা হয়।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জোড়া হত্যার ঘটনায় অন্যান্য আসামীদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এজে