জেলা প্রতিনিধি
১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
আগামীতে পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় মেহেরপুরের গাংনীর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চায়ের দোকানের আড্ডা, বাজারের চায়ের কাপে ঝড় কিংবা পাড়া-মহল্লার গল্প সবখানেই ঘুরেফিরে উচ্চারিত হচ্ছে সাবেক মেয়র আশরাফুল ইসলামের নাম। অনেকের মনেই প্রশ্ন আবারও কি ভোটের মাঠে ফিরবেন তিনি?
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেননি আশরাফুল ইসলাম, তবুও তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুই দফায় গাংনী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বজায় রেখে কাজ করেছেন। পৌর শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে কখনো কখনো নিজেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের হাতে ঝাড়ু তুলে দেওয়া, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কিংবা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এসব কাজ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দৃষ্টান্তও রেখে গেছেন তিনি। পৌর শহর ছাড়াও রাতে আলোকসজ্জা বাড়িয়ে উপজেলার গোপালনগর, সাহারবাটি ও ধানখোলা সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখা। এসব উদ্যোগে অনেকেই তার কর্মতৎপরতা স্মরণ করেন।
তবে তার মেয়াদকালে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে কিছু বিতর্কও ছিল। সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের একটি অংশ এখনো তার মানবিক ও সহজ-সরল আচরণের কথা স্মরণ করেন।
২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার সময় এক হামলার ঘটনায় আহত হন তিনি। সেই সময় তার বৈধ অস্ত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে দলীয় পদও হারাতে হয়। শিকার হতে হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক ও মিথ্যা মামলার। এলাকাবাসীর মতে, সেই ঘটনাগুলো তার রাজনৈতিক জীবনে বড় ধাক্কা হলেও মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি।
করোনাকালে তার মানবিক কর্মকাণ্ডও অনেকের মনে দাগ কেটেছে। অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, মানুষকে সচেতন করতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাস্ক বিতরণ এসব দৃশ্য এখনো অনেকের স্মৃতিতে জীবন্ত।
বর্তমানে পৌর নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন আড্ডা ও আলোচনায় তার নাম বারবার উঠে আসছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে এবং ভোটের মাঠ আরও জমে উঠবে।

এ বিষয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন, গাংনী পৌরবাসীর ভালোবাসা ও আস্থাই আমার রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে, সুখে-দুঃখে, দুর্যোগ কিংবা সংকটে। ভবিষ্যতেও যদি পৌরবাসী আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার মতো মনে করেন, তাহলে তাদের প্রত্যাশা পূরণে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক গাংনী পৌরসভা গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা আসেনি, তবুও সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যেই গাংনীর পৌর এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনকে সরব করে তুলেছে। অনেকের মতে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে তা হবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।
প্রতিনিধি/এসএস