images

সারাদেশ

মানবিক সহায়তায় গুণগত অর্থায়ন ও ঝুঁকি শেয়ারিং বিষয়ক সেমিনার

জেলা প্রতিনিধি

১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

মানবিক সংকটে কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে গুণগত অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগাভাগি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে কক্সবাজারে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পালস্–এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে “প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: মানসম্মত অর্থায়ন ও ঝুঁকি ভাগাভাগির অগ্রযাত্রা” শীর্ষক এই লোকালাইজেশন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনাল–এর সহযোগিতায় টুগেদার প্রকল্প–এর আওতায় এ আয়োজন করা হয়।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পালস্-এর অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী। পরে টুগেদার প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশসহ আটটি দেশে পরিচালিত কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আরিফ দেওয়ান। এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পালস্-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী রাশেদুল হাসান।

এরপর আবু মোরশেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানবিক সাড়াদানে গুণগত অর্থায়ন, ঝুঁকি ভাগাভাগি এবং লোকালাইজেশন বিষয়ক একটি প্ল্যানারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন কমিশনের প্রতিনিধি ও ক্যাম্প-ইন-চার্জ (উপসচিব) মো. শরিফুল ইসলাম, ব্র্যাকের সিনিয়র পরিচালক এ কে এম মোরশেদ, বিটা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্ত, মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কীর্তি, আইএসসিজি’র প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর ডেভিড বাগড্যান, মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার, ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি এস্ট্রিট, এনজিও প্ল্যাটফর্মের কো-অর্ডিনেটর মার্কো মিলজ্যভিক, জেনাস-এর নির্বাহী পরিচালক শিউলি শর্মা, অক্সফাম-এর হেড অব ফিল্ড অফিস জোবাইদা আখতার এবং সুশীলনের উপদেষ্টা মো. মুজিবুর রহমান।

আরও পড়ুন

হাসনাতের পর এবার খেজুরের হিসাব দিলেন মাসুদ সাঈদী

এ ছাড়া কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রমিজ আহমদ, সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস শুক্কুর, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, কোনো মানবিক সংকট বা দুর্যোগের সময় স্থানীয় সংগঠন, জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরাই সবার আগে এগিয়ে আসে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আস্থার কারণে তারা দ্রুত এবং বাস্তবসম্মত সহায়তা দিতে সক্ষম হয়।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্থানীয়করণ নীতির নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় সংস্থাগুলোর কাছে সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ এখনও সীমিত। অধিকাংশ অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ায় তা স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সেমিনারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সংস্থাগুলোর জন্য সরাসরি ও নমনীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, বহুবর্ষী অর্থায়নের ব্যবস্থা চালু করা, প্রশাসনিক ব্যয় নিশ্চিত করা, স্থানীয় উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠন এবং সরকার, দাতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সমতাভিত্তিক ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতি প্রণয়ন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থায় প্রায়শই এমন একটি ঝুঁকি স্থানান্তর মডেল অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে আর্থিক, আইনি, কমপ্লায়েন্স এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকির বড় অংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে স্থানীয় ও জাতীয় এনজিওগুলোর ওপর স্থানান্তর করা হয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে লোকালাইজেশন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক পদ্ধতির আহ্বান জানায়, যা আস্থা, পারস্পরিক জবাবদিহিতা এবং যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।

শেষে বিটা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্ত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রতিনিধি/এসএস