images

সারাদেশ

নাটোরে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ ১২ 

জেলা প্রতিনিধি

১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত একটি গরুর মাংস খেয়ে একই গ্রামের ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়ার মতো ফোলা দেখা দিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের মৃত মাঙ্গনের ছেলে আব্দুল গফুর সরকারের একটি গরু হঠাৎ পেটফাঁপা হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গ্রামের কয়েকজন লোক মিলে গরুটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেন। এরপর রোগ আক্রান্ত গরুর মাংস কাটা, রান্না করা এবং খাওয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই গ্রামের রহিম, মোস্তফা, আসাদ, ছানা, রাহুল ও লাভলীসহ কয়েকজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়ার মতো ফোলা তৈরি হয় এবং শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হতে থাকে। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমাছ আলী জানান, চলনালী গ্রামের ছয়জন রোগী চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থ ব্যক্তিরা অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোগের ধরন নিশ্চিত হওয়া যাবে।  

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গরুটি তরকা রোগে আক্রান্ত ছিল। অসুস্থ গরু জবাই করার বিষয়টি আগে প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে জানানো হয়নি। 

পরবর্তীতে জবাই করা গরুর অবশিষ্ট মাংসগুলো প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি জানার পর ওই গ্রামের ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব গবাদিপশুকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এজে