জেলা প্রতিনিধি
১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমে উঠেছে ঈদের কেনা-কাটা। পছন্দের পোশাক কিনতে শহরের প্রতিটি মার্কেট ও বিপণি-বিতানে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে দোকানিরা জানিয়েছেন, ব্যবসা ভালো হলেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাজারে।

প্রতিদিন সকাল থেকেই রাত পর্যন্ত শহরের প্রতিটি মার্কেট ও বিপণি-বিতানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল ১০টার পর থেকে বিকেল ৫ পর্যন্ত এবং ইফতারের পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
ফলে দম ফেলার ফুসরত নেই দোকানিদের। টেইলার বা দরজিবাড়িগুলোতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। ঈদকে সামনে রেখে শহরের প্রতিটি মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো সাজানো হয়েছে মনোরম সাজে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোতে আলোকসজ্জার পাশাপাশি বাহারি রঙের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

শহরের আশিক প্লাজা মার্কেট, পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, মালু মিয়া ম্যানশন, পুরাতন কোর্ট রোডের সিটি সেন্টার, ফরিদ উদ্দিন আনোয়ারা টাওয়ার, ফরিদুল হুদা রোডের বি. বেড়ে টাওয়ার, সড়ক বাজার, নিউ মার্কেট ও টানবাজারের হকার্স মার্কেটকে সাজানো হয়েছে মনোরম সাজে। এসব মার্কেটে সব বয়সি মানুষের পোষাক পাওয়া যায়।
এসব মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে পুরুষদেও তুলনায় নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি।
বুধবার রাতে বি.বাড়িয়া টাওয়ারে দেখা গেছে, হোসনে আরা বেগম জোনাকি এসেছেন তার একমাত্র ছেলে তাজিমকে নিয়ে কেনা-কাটা করতে।
আলাপকালে তিনি জানান, একমাত্র ছেলের জন্য কাপড় কিনতে পেরেছি। তিনি বলেন, এ বছর কাপড়ের দাম অনেক বেশি।

ফরিদ উদ্দিন-আনোয়ারা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় দেশীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের শো-রুম আছে। এর মধ্যে রয়েছে শৈশব, দর্জিবাড়ি, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, আমব্রেলা, ক্লোজেন ও ম্যানস ওয়ার্ল্ড ট্রেন্ডি উল্লেখযোগ্য। তৃতীয় তলায় আছে লাইক ফ্যাশন ওয়্যার ও নাইন জিরো। এ ছাড়া ফরিদ-আনোয়ারা টাওয়ার-সংলগ্ন এলেন কোর্ট ভবনের নিচতলায়, এপেক্স, সড়ক, বাজারে প্লাস পয়েন্ট, ডা. ফরিদুল হুদা সড়কে ইনফিনিটি মেগামল এবং পাইকপাড়া এলাকায় জেন্টল পার্কের শো-রুমেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। সড়ক বাজারের বিলাসী মেগা মল, শাড়ি বিচিত্রা, রং বেরং, কমলালয়, আঁচল, নীলাচল ও ইলোরাতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়দের ফারসি কামিজ, গাউন, আফগানি থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও পার্টি পোশাকের চাহিদা বেশি। ফারসি কামিজ ৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা, গাউন ৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা, থ্রি-পিস দেড় থেকে ১২ হাজার টাকা এবং লেহেঙ্গা ৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শিশুদের শার্ট ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং মেয়ে শিশুদের পোশাক ১ হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের দেশি পাঞ্জাবি দেড় হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং ভারতীয় পাঞ্জাবি ২ হাজার ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লাইক ফ্যাশন ওয়্যারের স্বত্বাধিকারী আরমানুল হক বলেন, ঈদের বাজারের বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। মেয়েদের ফারসি কামিজ, গাউন, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার পাশাপাশি পাকিস্তানি থ্রি-পিস ও ভারতীয় বুটিকসের চাহিদা বেশি। মেয়েশিশুদের আফগানি পোশাক, হীরামান্ডি ও ফারসি কাটও ভালো বিক্রি হচ্ছে। পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি ভালো বলেও তিনি জানান।
এফ.এ. টাওয়ারের ডিমান্ড শো-রুমের ব্যবস্থাপক রেদওয়ান ইসলাম বলেন, এবার বাজার আগের মতো জমেনি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। মানুষ এখন সহজে টাকা খরচ করতে চাইছেন না।
ছয় ঋতু ফ্যাশন হাউসের মালিক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা ভালো। তবে যুদ্ধেও কারণে মানুষ হিসেব করে টাকা-পয়সা খরচ করছে।
স্বপ্নলয় লেডিস এন্ড বেবি ফ্যাশনের মালিক আনোয়ার হোসাইন বলেন, সাধারণত শবে বরাতের পর থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনের কারণে সেটি দেরিতে শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের টাকা এলেই কাপড়ের ব্যবসা জমে ওঠে। গত কয়েকদিন বেচা-বিক্রি ভালো। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। মানুষ এখন সহজে টাকা খরচ করতে চাইছেন না।
প্রতিনিধি/ এজে