images

সারাদেশ

মাদারীপুরে হত্যার জেরে ৩০টি বসতঘরে আগুন, ঘটনাস্থলে ডিআইজি

জেলা প্রতিনিধি

১১ মার্চ ২০২৬, ০২:২২ পিএম

মাদারীপুরে ওয়াইফাই ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিপক্ষের অন্তত ৩০টি বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ঘটনায় এখন পুরুষশূন্য পুরো এলাকা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

8f5ef8bc-222f-431c-8fc5-3d7840acad26

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে মনিরুজ্জামানের চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে সন্ধ্যায় হাসান মুন্সির গ্রুপের অন্তত ৩০টি বসতঘর ভাঙচুর-লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়স্থল। হত্যাকাণ্ড ও আগুনের এই পাল্টাপাল্টি দুটি ঘটনায় আতঙ্কে বাসিন্দারা। বিচার চান ভুক্তভোগীরা।

eec4d856-5650-47af-ad49-5c8af392aa43

বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে। আশ্বাস দেন দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার। এ সময় তিনি জানান, সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট।

আরও পড়ুন

ওয়াইফাই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের বসতঘরে আগুন

নিহত আলমগীর হাওলাদারের বোন লাইজু আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। আমাদের কেউ হাসান মুন্সির কোনো লোকজনের বসতঘরে আগুন দেয়নি। আগুন নিজেরাই ধরিয়ে আমাদের নামে অপবাদ দিচ্ছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত হামুমন নেছা বলেন, ‘আমার ছেলে বিদেশে থাকে। কোনো দলবল করে না। অথচ, রাতের বেলা এসে আমাদের বসতঘর ভাঙচুর-লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি এর বিচার চাই।’

6ed29337-118a-4206-b142-d3c658ab619e

বাচ্চু হাওলাদারের মেয়ে ডালিয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের ঘরে কিছুই নেই। সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য শুধু এখন আছে পরনের একটি কাপড়। কবে, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে আমরা মুক্তি পাব।’

ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে। বাড়ানো হয়েছে টহল। জেলা প্রশাসনকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ আর কোনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

এদিকে আলমগীর হাওলাদার হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় ৮৬ জনের নামে মামলা করলে দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অপরদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস