images

সারাদেশ

ফ্যামিলি কার্ডে নতুন স্বপ্ন দেখছে নবাবগঞ্জের হতদরিদ্ররা, আজ উদ্বোধন

জেলা প্রতিনিধি

১০ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুফল পেতে যাচ্ছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষেরা। এতে করে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে বইছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। কাঙ্ক্ষিত এ উদ্যোগের উদ্বোধনের জন্য এখন প্রহর গুনছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলার একটি ওয়ার্ডের ৬০০টির বেশি মহিলা প্রধান পরিবার এই সুবিধা পাবেন। প্রতি মাসে প্রত্যেক পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হবে।

আজ ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে ১৪টি উপজেলার ১৪টি ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসনের নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেলঘাট গ্রামের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো এই সুবিধা পাচ্ছেন। ওই ওয়ার্ডের প্রায় ২ হাজার পরিবারের মধ্যে যেসব পরিবারে মা বা কোনো নারী প্রধান রয়েছেন, তারাই এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।

আরও পড়ুন

বান্দরবানে প্রথম ধাপে ১০৯৭ পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

এ বিষয়ে কুটিরডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের এই গ্রামে আগে কোনো সরকার আসেনি, কেউ খোঁজ-খবরও নেয়নি। এখন সরকারি লোকজন এসে কাগজপত্র নিচ্ছেন। শুনেছি আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ড পেলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

সাজেদা বেগম ও শম্পা বেগমসহ কয়েকজন জানান, আমরা এই অঞ্চলের অবহেলিত মানুষ। কেউ আমাদের দিকে তাকায় না। নতুন সরকার আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। এতে আমাদের পরিবার চালাতে অনেক সুবিধা হবে এবং সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করতে পারব।

নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী বলেন, সুবিধাভোগী পরিবারের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে নারীকে নির্বাচন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা অনুযায়ী ছয় ধরনের পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে। সেগুলো হলো, পরিবারের কেউ সরকারি পেনশনভোগী হলে, বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থাকলে, ব্যক্তিগত গাড়ি বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে, পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিজীবী হলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী হলে এবং বড় পরিসরের ব্যবসার মালিক হলে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতি মাসে প্রত্যেক পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তাদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হবে। উদ্বোধনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। আমার নির্বাচনি এলাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে এই কার্ড হস্তান্তর করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস