জেলা প্রতিনিধি
০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
মেয়ের তথাকথিত ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ বিরক্ত হয়ে সৎ পিতা আশরাফ আলী একাই কিশোরী আমেনাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এছাড়া এ ঘটনায় নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরা ও হযরত আলীও বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। অন্যদিকে, কিশোরী হত্যার ১০-১২ দিন আগে (১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা) আসামি হযরত আলীর বাড়িতে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার।
তদন্তে আরও জানা যায়, সৎ পিতা আশরাফ আলী (৪৫) তার মেয়ের কর্মকাণ্ডে সামাজিক মর্যাদাহানির অজুহাতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মেয়েকে এক সহকর্মীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পথিমধ্যে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। গ্রেফতারের পর আশরাফ আলী আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মূল আসামি আশরাফ আলীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: আশরাফ আলী (৪৫): নিহতের সৎ পিতা (শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী)। নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮): কথিত প্রেমিক।
অন্যান্য অভিযুক্ত: এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), মোঃ আইয়ুব (৩০) এবং ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন।
প্রতিনিধি/একেবি