জেলা প্রতিনিধি
০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪১ এএম
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ৯ বছর বয়সী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে ঘরে রেখে তার মা বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখেন, ঘরের আড়ার সঙ্গে মেয়ের দেহ ঝুলছে এবং তার নিম্নাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছে। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিশুটির মা বলেন, ‘আমি ভাত খেয়ে মেয়েকে ঘরে রেখে গিয়েছিলাম। মাঠ থেকে ফিরে দেখি ঘরের আড়ার সাথে সে ঝুলছে। তার পরনের কাপড় এলোমেলো ছিল এবং শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। আমি আমার সন্তানের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
শিশুটির চাচাতো ভাই অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়েটির নিম্নাঙ্গ থেকে রক্ত ঝরছিল। ধারণা করছি, ধর্ষণের পরই তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যারা একটি ছোট শিশুকে এভাবে বাঁচতে দিল না, তাদের চরম শাস্তি দাবি করছি।’
বারহাট্টা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঝুলিয়ে রাখার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।’
প্রতিনিধি/একেবি