জেলা প্রতিনিধি
০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ এএম
খালের মোহনায় সারারাত জেগেছিল পুরো একটি গ্রাম, ধর্মীয় রীতিতে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় চলছিল নিখোঁজ এক কিশোরকে ফিরে পাওয়ার প্রার্থনা। অবশেষে ভোরে সূর্যকিরণ ছড়ালে আনুমানিক ১৪ ঘণ্টা পর ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় তার মরদেহ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারে উখিয়ায় রেজুরকুল এলাকার রেজুখাল থেকে স্কুলছাত্র কৌশিক বড়ুয়া বাঁধনের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বাঁধন স্থানীয় বাসিন্দা পতন বড়ুয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল থেকে বাঁধনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ছেলের সন্ধানে বাবা পতন বড়ুয়া উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন, এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।
রাত ১০টার দিকে বাঁধনের এক বন্ধু জানায়, সন্ধ্যার দিকে তারা রেজুখালের মোহনায় থাকা একটি বড়ই গাছে বড়ই পেড়ে খাচ্ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা দীপক বড়ুয়া জানান, একপর্যায়ে কথিত ‘অদৃশ্য শক্তি’র ডাকে বাঁধন খালে পড়ে গেলে সেই বন্ধুটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করে এবং ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ায় সে ঘটনা প্রকাশ করতে বিলম্ব করে।
রাতে এ ঘটনার খবর পেয়ে খাল সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হন হাজারও মানুষ, নিখোঁজ বাঁধনকে খোঁজার পাশাপাশি স্থানীয় বিহারের বৌদ্ধগণ ধর্মীয় রেওয়াজে প্রার্থনা ও ত্রিপিটক থেকে মন্ত্র পাঠ করতে থাকেন। পরে সকালে বাঁধনের শরীর অংশ (মাথা) ভাসমান অবস্থায় দেখা গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক জানান, দুর্ঘটনাবশত বা অন্যকোনো কারণে বাঁধন খালে পড়ে মারা যেতে পারে। কিন্তু এ যুগে এসেও কুসংস্কার ছড়িয়েছে খারাপ এবং অলৌকিক কিছুর প্রভাবে তার এমন পরিণতি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের ঘটনাকে ‘ঢালি’ নেওয়া বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই মিথের উপযুক্ত প্রমাণ নেই। আসল রহস্য পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত।
প্রথম সন্তানকে অকালে হারিয়ে পতন বড়ুয়া ও শিখা বড়ুয়া দম্পতির পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আর্তনাদ করতে করতে বাঁধনের মা শিখা বড়ুয়া বলছিলেন, আমি কিচ্ছু চাই না, আমার বাঁধন ছাড়া, তোমরা আমার বাঁধনকে এনে দাও।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে, আসলে কীভাবে কিশোরটির মৃত্যু হলো পুরো বিষয়টি তদন্ত করে তারপর বলা যাবে।
বাঁধনের সেই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রযোজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস